বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরে ঈদুল ফিতরের দিন নামাজের সময় নির্ধারণ ও মসজিদের ইমামের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে ১৭টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সোহেল মুন্সিকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত সোমবার ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের প্যাডে জারি করা এক লিখিত পত্রে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে স্বাক্ষর করেন জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি শেখ এনামুল করিম। বহিষ্কৃত সোহেল মুন্সি ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের রামখণ্ড গ্রামের বাসিন্দা এবং কোতোয়ালি থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ‘সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে চূড়ান্ত বহিষ্কার’ শিরোনামের ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়, সোহেল মুন্সির বিরুদ্ধে সংগঠনের নীতিমালা ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট ও প্রমাণিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার কার্যকলাপ সংগঠনের আদর্শ, ঐক্য ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে বলেও পত্রে উল্লেখ করা হয়।

পত্রে আরও জানানো হয়, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন (অনু) ও সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং ভবিষ্যতে তার কোনো কর্মকাণ্ড বা বক্তব্যের দায় সংগঠন বহন করবে না বলেও জানানো হয়।

বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন বলেন, ‘ঈদের দিন কানাইপুর ইউনিয়নের মধ্য কাশিমাবাদ গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় সোহেল মুন্সির সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায় কোনো নেতাকেই বহন করতে দেওয়া হবে না।’ তবে অভিযুক্ত সোহেল মুন্সির মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। প্রসঙ্গত, গত শনিবার ঈদের দিন ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের মধ্য কাশিমাবাদ গ্রামে ঈদের নামাজের সময় নির্ধারণ ও মসজিদের ইমামের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে অন্তত ১৭টি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে এবং কয়েকজন আহত হন। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় সোহেল মুন্সির নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তার সঙ্গে কানাইপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৭ নম্বর ইউপি সদস্য রফিকুল আলম খান এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন খানসহ আরও কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।