যমুনার চরে সবুজের সমারোহ

প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এসএম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

যমুনার বুকজুড়ে ইরি বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করা হয়েছে। ধু ধু বালুর চরে এ চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছেন কৃষক। নাব্য কমে যাওয়ায় পাল্টে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চলবাসীর অর্থনীতি। এ খরচ কম লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকেরা খুশি। জানা যায়, কয়েক যুগ আগেও যমুনা নদীর তীব্রতা ছিল ভয়াবহ। আর সেই যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়েছে এবং অনেক পরিবার এখনও মানবেতর জীবনযাপন করছে। বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে এ ভাঙন কমেছে। সেইসঙ্গে কয়েক বছর ধরে যমুনার গতিপথ পরিবর্তনের কারণে নাব্য ক্রমশ কমে যাচ্ছে।

এ কারণেই সৃষ্টি হয়েছে যমুনার বুকজুড়ে চর আর চর এবং কমে যাচ্ছে যমুনার সৌন্দর্য ও আয়তন। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জের যমুনার তীরবর্তী শাহজাদপুর, বেলকুচি, কাজিপুর, চৌহালী ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন স্থানে চর পরিণত হচ্ছে। এসব চর ও চরের তলদেশ জেগে ওঠা ঘিরে এখন চাষাবাদও শুরু হয়েছে। আর সেখানে গড়ে উঠেছে গরু মহিষের খামার এবং চরজুড়ে শোভা পাচ্ছে ইরি বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ। বিশিষ্টজনের মতে, যমুনা নদীর বুকে যমুনা সেতু নির্মিত হওয়ার পর থেকে এ নাব্য কমতে দেখা দিয়েছে। যমুনার বুক এখন ফসলে ভরা। জেগে ওঠা ধু-ধু বালুচরে এখন উঠতি বোর ধানের দৃশ্য।

এছাড়া চলতি বছরে জেগে ওঠা চরে স্থানীয়রা বোরো, তিল, কাউন, বাদাম, গম, মসুরসহ রবিশস্যর আবাদ করছে। সে সময়ের যমুনা নদীর ইলিশ, চিংড়ি, বোয়াল, পাবদা প্রায় বিলুপ্তির পথে। এ যমুনায় বিভিন্ন প্রজাতের মাছ ধরে যারা জীবিকা নির্বাহ করত তারা অন্য পেশায় নিজেদের নিয়োজিত করেছে এবং চরবাসীর যাতায়াতে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। চর ও ডুবোচর জনিত কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অনেক কৃষক ও জেলে বলছেন, প্রমত্তা যমুনা আজ হাহাকার বালু চর। এমনকি স্রোতের কারণে নৌকা বাইতেও সাহস পাইতাম না। সেখানে আজ নৌকার হালও ধরতে হয় না। এমনকি যে ঘাটে বড় বড় ফেরি বাঁধা থাকত সেখানে আজ গরু বাঁধা থাকে।

যমুনার বুকজুড়ে এখন চাষ হয়ে থাকে বিভিন্ন ফসলের এবং সেই যমুনা নদীতে এখন মাছের আকাল। সবমিলে যমুনার বাহার ও সৌন্দর্যের দৃশ্য দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। কৃষিবিদরা বলছেন, নাব্য কমে যাওয়ায় যমুনার বুকজুড়ে বিভিন্ন ফসলের চাষ হচ্ছে। এতে পাল্টে যাচ্ছে চরাঞ্চলের মানুষের অর্থনীতি।

এসব চাষে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, বর্তমানে যমুনার গতিপথ পরিবর্তনের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য গতিপথ ফেরাতে সম্প্রতি যমুনা নদীর বিভিন্ন চ্যানেলে ড্রেজিং কাজও করা হয়েছে।

এ ড্রেজিংয়ে সে সময় যমুনার পথ চলাচলে কিছুটা সচল হয়েছিল। বর্তমানে নানাবিধ কারণে এ যমুনার নাব্য ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। তবে যমুনার চ্যানেলগুলোতে ড্রেজিং করলে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।