নির্মাণের ৩ বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি অত্যাধুনিক বিশ্রামাগার
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
এসএম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জের মহাসড়কের পাশে পাঁচলিয়া এলাকায় ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পণ্যবাহী চালকদের নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে বিশ্রামাগার প্রকল্পের নির্মাণ কাজ করা হয়েছে। এ অত্যাধুনিক বিশ্রামাগার নির্মাণের ৩ বছর পার হলেও আজও চালু হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ওই মহাসড়কে চালকদের নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে এ প্রকল্পের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। দরপত্রে নির্বাচিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ২০২০ সালের মে মাসে উল্লেখিত স্থানে প্রায় ১৩ দশমিক ৫৬ একর জমির উপর প্রকল্পের কাজ শুরু করে এবং এ প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। এ প্রকল্পের কাজ শুরু থেকে ২ দফা প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যায় বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সওজ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, এ প্রকল্পের নকশা অযায়ী বিশ্রামাগার দোতলা করার কথা ছিল। প্রকল্পের শেষ সময়ে আরও ২ তলা বাড়িয়ে ৪ তলা করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার লিমিটেড, রানা বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেড ও মেসার্স সাগর বিল্ডার্স যৌথভাবে এ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেছেন এবং এ প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয় ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে। ৩ বছর পার হলেও এ বিশ্রামাগার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি। এ বিশ্রামাগার অভ্যান্তরে এখন ছাগল গরুও বিচরণ করছে। নির্মিত বিশ্রামাগারে পণ্যবাহী গাড়িচালকদের জন্য পার্কিং সুবিধাসংবলিত বিশ্রামাগার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। অত্যাধুনিক বিশ্রামাগার ইজারা বা অপারেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (ওঅ্যান্ডএম) ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে। আবার বিভাগীয় পদ্ধতিতেও পরিচালনা করা হতে পারে। ইজারা দেওয়া হলে কম-বেশি ৩ বছরের চুক্তি হতে পারে। অপারেটর নিয়োগ দিলে তা হবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে। এক্ষেত্রেও তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হব।
এ প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাগর বিল্ডার্সের কর্তৃপক্ষ বলেন, করোনার কারণে দু-দফায় কয়েক মাস এ প্রকল্পের কাজ বন্ধ ছিল। এরপরেও যথাসময়ে এ প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অবশ্য একাধিকবার ডিজাইন পরিবর্তন হওয়ায় নির্মাণ কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিল। এ বিষয়ে বিশিষ্টজনেরা বলছেন, দিন ও রাতের ক্লান্তি নিয়েই চালকরা গাড়ি চালান। এজন্য দ্রুত ওই নির্মিত বিশ্রামাগার প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা প্রয়োজন। তারা আরও বলছেন, চালকরা ওই বিশ্রামাগারে রেস্ট নেওয়ার পরে গাড়ি চালালে দূর্ঘটনার আশংকা কম থাকবে। সিরাজগঞ্জের সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল বলেন, দেশে এই প্রথম চালকদের জন্য অত্যাধুনিক বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হয়েছে। এ অত্যাধুনিক বিশ্রামাগার লিজ দিতে কিছু জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এরমধ্যেই এ জটিলতা নিরসনের কাজ এগিয়ে চলছে এবং এ বিশ্রামাগার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
