রানা প্লাজায় বেঁচে গেলেও দৌলতদিয়ায় শেষ রক্ষা হয়নি নাসিমার
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনধি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাস দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন আলোচিত রানা প্লাজার ‘বিদ্রোহী’ নাসিমা বেগম (৪০)। তার মৃত্যুতে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গতকাল শুক্রবার বাদ জোহর পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
নিহত নাসিমা পার্বতীপুর উপজেলার ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী। স্বামী মারা যাওয়ার পর জীবিকার তাগিদে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কাজের সন্ধানে সাভারে ভাগ্নি আজমিরা খাতুনের বাসায় যান। এক মাস চেষ্টা করেও চাকরি না পেয়ে ঈদ উপলক্ষে ভাগ্নির শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে অবস্থান করেন।
ঘটনার দিন (২৫ মার্চ) বিকাল ৫টার দিকে তিনি ভাগ্নি অন্তঃসত্ত্বা আজমিরা খাতুন, চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান ও আজমিরার স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদকে নিয়ে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাসে রওনা দেন। পথে পদ্মা নদীতে বাস দুর্ঘটনার সময় সবাই নিখোঁজ হন। পরে ভাগ্যক্রমে আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমা, তার ভাগ্নি ও শিশুসহ তিনজনের লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লাশ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে পার্বতীপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন স্বজনরা। পথে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়ির চাকা বিস্ফোরিত হয়ে সাময়িক দুর্ঘটনায় পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহতের চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। তিনি জানান, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় সেখানে কর্মরত ছিলেন নাসিমা। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে ঢাকায় কাজের সন্ধানে যাওয়াই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন জানান, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পার্বতীপুরের নাসিমা বেগম ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজা ধসের একজন সাহসী জীবিত উদ্ধারপ্রাপ্ত শ্রমিক ছিলেন। ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে তিন দিন আটকে থাকার পর অলৌকিকভাবে তাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে তিনি গ্রামের বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
