দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে মিলছে ১০০ টাকার তেল
প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো
রংপুরের ফিলিং স্টেশনগুলোতে ‘জ্বালানি তেল নেই’ নোটিশ, চরম দুর্ভোগ। গতকাল শুক্রবার নগরীর ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, কোনও ফিলিং স্টেশনেই তেল নেই। নগরীর এ রহমান পাম্প, ছালেক পেট্রোল পাম্প, শাপলা পেট্রোল পাম্প, সিটি পেট্রোল পাম্পসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক পাম্পেই মোটরসাইকেল, কার, মাইক্রেবাস চালকের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। আবার অনেক পাম্প কালো কাপড়ে ঢাকা দেখা যায়।
সবখানে শত শত মোটরসাইকেল, কার জিপগাড়ী লাইন ধরে অপেক্ষা করছে। ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, বৃহস্পতিবার ডিপো থেকে কোনও জ্বালানি তেল সরবরাহ করেনি। ফলে তাদের পক্ষে তেল বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা আরও অভিযোগ করেন, জ্বালানি ডিপোগুলো কবে কখন জ্বালানি সরবরাহ করবে তাও বলছে না।
অথচ ট্যাংক-লরিগুলো তেলের জন্য ডিপোতে অবস্থান করছে দুই দিন ধরে। সে কারণে তারা বাধ্য হয়ে তেল নেই বলে নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছেন।
পাম্প মালিকদের দাবি চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ হচ্ছে না। যার কারণে এই সংকট দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে।
পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তেল সংগ্রহে তীব্র ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে মোটরসাইকেল কার জিপগাড়ী চালকদের। দুই ঘন্টা তিন ঘন্টা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকে তারা তেল সংগ্রহ করছেন।
তবে দুই ঘন্টা ধরে অপেক্ষার পর তেল পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০০ টাকার। আবার কোথাও কোথাও অপেক্ষার পর জানা যাচ্ছে তেল শেষ হয়েছে। যার কারনে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেল পাম্প কর্মচারী ও মালিকদের সঙ্গে প্রায় তর্কাতকির মতো ঘটনা ঘটছে আবার কোথাও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি দেখা দিচ্ছে।
জুম্মন আলী বলেন, শ্বশুর বাড়ি যাবো। কমপক্ষে ৫০০ টাকার তেল লাগবে। প্রায় দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে তেল পেলাম মাত্র ১০০ টাকার। অনেক রিকুয়েস্ট করেও ১০০ টাকার বেশি পাওয়া গেলো না। এই ১০০ টাকার তেল দিয়ে কীভাবে। এমন আক্ষেপের কথা বলেন রহমত আলী।
তিনি বলেন, ২০০-৩০০ টাকার তেল দিলে কিন্তু পাম্পের লাইন ধরতে হতো না। বাইকাররা পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ছুটছেন এবং লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।
পেট্রোল পাম্প অনার্স এসোসিয়েশনকে রংপুরের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ শোভন বলেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গুলো চাহিদার তুলনায় অনেক কম জ্বালানি সরবরাহ দিচ্ছে। যার কারণে তেল নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। রংপুরে যা তেল রয়েছে সেটাও দ্রুত সরবরাহ শেষ হওয়ার পথে।
তিনি বলেন, মোটরসাইকেল কার জিপগাড়ী চালকরা অনেকে আগামী দিনে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকে তেল মজুত করছেন, এমন আশঙ্কা থেকে ১০০ টাকার বেশি পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে না। যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই সংকট থাকবে। এসময় তিনি পাম্পের নিরাপত্তায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে পুলিশ মোতায়েনের অনুরোধ জানান প্রশাসনের কাছে।
যমুনা পেট্রোলিয়ামে রংপুর অঞ্চলের সেলস অফিসার মোহসিন আলী জানান, ঢাকা থেকে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। যার কারণে জ্বালানি সংকটের বিষয়টি নিয়ে আমার মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
