সংযোগ সড়ক না হওয়ায় কাজে আসছে না সেতু
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আব্বাস আলী, নওগাঁ

ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সংযোগ সড়ক না হওয়ায় নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীতে নির্মিত সেতু কোনো কাজেই আসছে না। বাধ্য হয়ে নদী পারাপারে এলাকাবাসীকে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে হচ্ছে। দ্রুত সমস্যা সমাধান করে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নওগাঁ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়- উপজেলার শীবগঞ্জ ও গোপিনাথপুর বাজারে আত্রাই নদীর মাঝে ২০২১ সালে ২৩ মার্চ ৩০ কোটি ৫৯ লাখ ৫৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৫৯ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজটি করছেন ঢাকার দিলকুশার ম্যাক্স ইনফাট্রাকচার নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। কাজের শেষ সময় ছিল ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়িয়ে সময় বৃদ্ধি করা হয়। গত এক বছর আগে সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হয়। এরইমধ্যে সেতুর প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। তবে সেতুর কাজ শেষ হলেও পূর্বপাশে শীবগঞ্জ বাজারে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সংযোগ সড়ক না হওয়ায় সেতুর দুইপাশে বেড়া দিয়ে মুখ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে পারাপার বন্ধ রয়েছে।
মহাদেবপুর উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে আত্রাই নদী। নদীটির পূর্বপাশে উত্তরগ্রাম ইউনিয়ন ও পশ্চিম পাশে চান্দাশ ইউনিয়নকে ভাগ করেছে। উপজেলা সদরে ডাক-বাংলোর পাশে একটি এবং ১৬ কিলোমিটার দূরে জেলার মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর ফেরিঘাট নামক স্থানে একটি ব্রীজ আছে। এরমাঝে আর কোনো সেতু নেই। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে আত্রাই নদীর পূর্ব পাশে শীবগঞ্জ হাট-বাজার এবং পশ্চিমপাশে গোপিনাথপুরে ছোট বাজারে একটি খেয়াঘাট রয়েছে। এখানে শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো এবং বর্ষায় নৌকা দিয়ে পারাপার হোন স্থানীয়সহ মান্দা, পত্নীতলা ও পোরশা উপজেলার বাসিন্দারা। প্রতিদিন এ খেয়াঘাট দিয়ে অন্তত ৪-৫ হাজার মানুষ পারাপার হয়। শীবগঞ্জে হাট-বাজারের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। ভ্যানসহ বড় যানবাহন উপজেলা সদর দিয়ে প্রায় ৮ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়।
পশ্চিমপাশ থেকে পূর্বপাশে শীবগঞ্জে অন্তত ১৫০ জন শিক্ষার্থী লেখাপড়ার জন্য যেতে হয়। শুষ্ক মৌসুমে তেমন ঝুঁকি না থাকলেও বর্ষায় ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার হতে হয়। বাচ্চাদের পারাপার নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় অভিভাবকদের।
গোপিনাথপুর গ্রামের সালমান ফারসি বলেন- বর্ষায় নদী পার হতে নৌকার জন্য আধাঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। নদী পার হয়ে ওপারে ছেলে-মেয়েদের পড়াশেনাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বর্ষার সময় নদীতে ভরপুর পানি থাকলে নৌকা পারাপারে আরও ভয়াবহ অবস্থা হয়। বাচ্চাদের জন্য দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। সেতুটি চালু হলে আমাদের দীর্ঘদিনের দুংখ ও কষ্ট দূর হবে।
খেয়াঘাটের মালিক বিদ্যুৎ হোসেন বলেন- এ খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ পারাপার হয়। এ স্থানে একটি সেতু হবে আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। অবশেষে সেতু নির্মাণ হয়েছে; কিন্তু এখনও চলাচলের উপযোগী হয়নি। সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানাই।
কাঞ্চন গ্রামের বয়োজেষ্ঠ্য সিরাজুল ইসলাম বলেন- গত প্রায় ৫০ বছর থেকে এ খেয়াঘাট দিয়ে পারাপার হচ্ছি কখনও নৌকায় আবার কখনও বাঁশের সাঁকোতে। বর্ষায় আবার নদী পার হতে গিয়ে অনেক সময় বৃষ্টিতে ভিজতেও হয়েছে। একটি সেুত নির্মাণ হয়েছে কিন্তু আমরা এখনও চলাচল করতে পারছি না। বাধ্য হয়ে বাঁশের সাঁকো পার হতে হচ্ছে।
মান্দার সতিহাট গ্রামের বাসিন্দা বয়জেষ্ঠ্য আক্কাস আলী বলেন, মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার সুবাদে এ খেয়াঘাট দিয়ে গত প্রায় ২০ বছর থেকে চলাচল করতে হচ্ছে। সেতুটি চালু হলে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে এবং খরচও কমে আসবে।
কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার আব্দুল মজিদ বলেন- অনেক আগেই আমাদের ব্রিজের কাজ শেষ হয়েছে। তবে পূর্বপাশে ভূমি জটিলতায় সংযোগ সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় ব্রিজ দিয়ে চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া কাজ বন্ধ থাকায় আমাদের বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। দ্রুত সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
নওগাঁ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. বদরুদ্দোজা বলেন- জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ থেমে আছে। এ কারণে চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে দ্রুত এ সমস্যা সমাধান হবে এবং সেতুটি চলাচলের উপযোগী হবে।
