দক্ষিণাঞ্চলে চীনাবাদামে ফিরছে কৃষকের সচ্ছলতা
প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নুর উল্লাহ আরিফ, চরফ্যাশন (ভোলা)

মানবদেহের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর, প্রোটিন, ফাইবার ও গুড ফ্যাট সমৃদ্ধ চীনাবাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে ভোলার চরফ্যাশনে। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে চীনাবাদামের ব্যাপক চাষাবাদ হলেও সবচেয়ে বেশি চীনাবাদামের চাষ হয়েছে উপজেলার তেতুলিয়া নদীর তীরবর্তী পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনিয়নগুলোতে। এসব ইউনিয়নের আবাদি জমির বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে চীনাবাদাম গাছের সবুজ সমারোহ। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা হাসিমুখে অপেক্ষা করছেন ফলন ঘরে তোলার। কয়েকদিন পরই তাদের তোরজোড় শুরু হবে ফলন ঘরে আনার ও বেচাবিক্রির।
চলতি বছর চরফ্যাশন উপজেলায় চীনাবাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গত বছর বাদাম উৎপাদন করে কৃষকরা লাভবান হওয়ায় এ বছরে তারা বাদাম চাষে ব্যাপকভাবে ঝুঁকে পড়েছেন। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বাদাম চাষে লক্ষ্যমাত্রা ৫২৫০ হেক্টর হলেও আবাদ হয়েছে ৫৪৩০ হেক্টর জমিতে।
যা বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষাবাদ। উন্নত জাতের বাদাম চাষ হওয়ায় ফলনও বাম্পার হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে ২.৫ থেকে ৩ মেট্টিক টন বাদাম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে উপজেলায় প্রায় ১৫০০০ মেট্টিক টন চীনাবাদাম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। চাষাবাদ করা জাতের মধ্যে রয়েছে ঢাকা-১, বিনা চীনাবাদাম ৪, বারি চীনাবাদাম ৮ সহ বেশ কয়েকটি উচ্চ ফলনশীলসহ স্থানীয় জাতের চীনাবাদাম।
কৃষি বিভাগ ও কয়েকজন কৃষক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নেই চীনাদামের ব্যাপক চাষাবাদ হয়ে থাকে। তবে তেতুলিয়া নদীর তীরবর্তী এলাকা পশ্চিমাঞ্চলে বিশেষ করে নুরাবাদ, নীলকমল, আহমেদপুর, চরকলমি, মুজিবনগর ইউনিয়নে সবচেয় বেশি চীনাবাদামের আবাদ হয়ে থাকে। রবি মৌসুমের এ সময়ে উল্লেখিত ইউনিয়নের কৃষকের হৃদয়ে আশা জাগানিয়া ফলন হলো এখন হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো চীনাবাদাম।
আবুল কালাম আজাদ নামে তেতুলিয়া নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের এক কৃষক জানান, উর্বর পলি, দোআঁশ মাটি ও আবহাওয়া ভালো থাকায় এবার ফলনও হয়েছে ভালো। আমরা প্রতিবছর চীনবাদাম বিক্রি দুই তিন লাখ টাকা আয় করি। এ উপার্জন দিয়েই আমাদের সংসার চলে। সরকার আমাদের সহযোগিতা করলে আরও লাভবান হব। উৎপাদিত বাদাম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যান পাইকার ব্যবসায়ীরা।
মুজিবনগর ইউনিয়নের বাদাম চাষি আবু ইউসুফ বলেন, তার চাষ করা বাদামের ফলন ভালো হয়েছে, দশ একর জমিতে তিনি বাদাম চাষবাদ করেছেন। অতিবৃষ্টি, কীটপতঙ্গের আক্রমণ বা অন্য কোনো সমস্যা না হলে সার, বীজ ও শ্রমিকসহ উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে তিনি কয়েক লাখ টাকা আয়ের আশা করছেন।
চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকতা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চীনাবাদাম চাষ হয় চরফ্যাশন উপজেলায়। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া চীনাবাদাম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তুলনামূলকভাবে উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় এখানকার কৃষকরা চীনাবাদাম চাষে ঝুঁকছেন। এ বছর প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ২০০০ কৃষককে চীনাবাদামের উন্নতমানের বীজ এবং সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও সব কৃষককে প্রযুক্তিগত পরামর্শসহ বালাই দমনে সহায়তা করা হচ্ছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও রোগ-পোঁকামাকড় কম হওয়ায় চরফ্যাশন উপজেলায় চীনাবাদামের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা যায়।
চরফ্যাশন প্রেসক্লাবের সহসভাপতি কামাল মিয়াজী বলেন, উপজেলার তেতুলিয়া নদীর তীরবর্তী পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ খোলা মাঠের দৃশ্য এখন দারুণ উপভোগ্য। এখানে ভ্রমণ এ সময় অত্যন্ত আনন্দদায়ক। তেতুলিয়া নদীর আশপাশ সবুজের সমারোহ উপভোগে মনপ্রাণ ভরে উঠে।
