স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে ‘নিম্নমানের খাবার’

তদন্তে ডিসি

প্রকাশ : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার বেশ কয়েকটি স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে নিম্নমানের পাউরুটি, দুধ, ডিম ও কলা সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার এ অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী নিজেই এ বিষয়ে সরেজমিনে তদন্তে নামেন। গতকাল বুধবার দুপুরে তিনি ইদ্রাকপুর ১নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, অভিযোগ তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ সদরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাঁচা কলা, শক্ত রুটি, নষ্ট ডিম বিতরণের অভিযোগ পাওয়া পাওয়া যায়। গত মঙ্গলবার শহরের পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয়সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের পুষ্টি উন্নয়ন এবং বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে চালু করা স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে উল্টো অনুপযোগী খাবার বিতরণে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকসহ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। তবে কোনো ঠিকাদার বা কারা এসব খাবার সরবরাহ করছে, তা নিশ্চিত করতে পারেননি উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা। একাধিক অভিভাবক জানান, অনেক শিশু এই খাবার খেতে না পেরে বাসায় নিয়ে এসেছে কাঁচা কলা ও শক্ত বন রুটি। মাসুদ নামের এক অভিভাবক জানান, ‘এর আগেও গলে যাওয়া ডিম দেওয়া হয়েছিল। শিশুরা যদি এসব খায়, তবে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর না খেলে রাষ্ট্রের টাকা অপচয় হচ্ছে। কারা এসব করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

প্রাইমারি টিচার ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের সুপারিন্টেনডেন্ট মো. মাজহারুল হক। তিনি জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব খাবার সরবরাহ করা হয়। এ বিষয়ে অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে, বিষয়টি এরমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জানানো হয়েছে। এর আগেও নিম্নমানের ডিম সরবরাহের অভিযোগ ছিল।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, সদর উপজেলায় ১১৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৬ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। যাদের মধ্যে নিয়মিতভাবে রুটি, ডিম, কলা, দুধসহ বিভিন্ন দিনে পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার কথা। কিন্তু গত দুই দিনে ১০-১২টি বিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।

এ বিষয়ে মেডেসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সাইদুর রহমান হিমেল বলেন, কাঁচা কলা খেলে শিশুদের বদহজম হতে পারে। আর রুটি শক্ত বা নরম যাই হোক, সেটির মেয়াদ আছে কি না তা দেখা জরুরি। মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার হলে ফুড পয়জনিং হয়ে শিশুরা অসুস্থ হতে পারে। সদর উপজেলার বাসিন্দা সিয়াম আহমেদ বলেন, শিশুদের শুধু শিক্ষা প্রদানই নয়, তাদের সুস্থ বিকাশের দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের। কারা এসব খাবার বিতরণ করছে, তা শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানার কথা। এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মোমিন মিয়া বলেন, ১০-১২টি স্কুল থেকে অভিযোগ পেয়েছি। ছবি সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানোর প্রক্রিয়া চলছে। খাবার সরবরাহের ঠিকাদার কারা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, আমার সঠিক জানা নেই। এ বিষয়ে মুঠোফোনে জেলা শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঠিকাদার বা খাবার সরবরাহকারীর বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, গত তিন দিন ধরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চলছে। আরও দু-একদিন দেখে এরপর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের রিপোর্ট করব।

গত মঙ্গলবার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী নিজেই এ বিষয়ে সরেজমিনে তদন্তে নামেন। গতকাল বুধবার দুপুরে তিনি ইদ্রাকপুর ১নং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, অভিযোগ তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।