কিশোরগঞ্জে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ৫০

প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৌর এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ জন নারী-পুরুষ চিকিৎসার জন্য এসেছেন। এদের মধ্যে কয়েকজনকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনা শোনার পরপরই দুই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে এসে আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস ও পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আরিফুর রহমান।

সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ আহতেরই আক্রান্ত হওয়া স্থান থেকে রক্ত ঝরছে। কেউ বাইরে বসে আক্রান্ত স্থানে সাবান দিয়ে ধৌত করছেন। কেউ বা আবার জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছেন। আহত এবং স্বজনদের উপচে পড়া ভিড় হাসপাতালজুড়ে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর-এ-আলম খান জানান, সন্ধ্যার পর থেকে মাত্র এক ঘণ্টায় ৩০ জন নারী-পুরুষ পাগলা কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। আহতের মধ্যে যাদের অবস্থা গুরুতর, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যেভাবে লোকজন আসছেন, তাতে মনে হচ্ছে আহতের সংখ্যা অর্ধশত পার হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যা ভ্যাকসিন ছিল, তা শেষ। অনেকেই বাইরে থেকে কিনে পুস করছেন। কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে একসঙ্গে এতো রোগী আর কখনও আসেনি। পাকুন্দিয়ার ইউএনও রূপম দাস বলেন, পাগলা কুকুরে অনেক মানুষকে কামড়িয়েছে শুনে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ছুটে যাই এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নিই। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য খোঁজ খবর নিচ্ছেন। আমরা পাগলা কুকুর দমনে কী করা যায়, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যাবস্থা নিচ্ছি। কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, সন্ধ্যার পরই এমন ঘটনার সংবাদ পাই, তখন আমি জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ছিলাম। তাৎক্ষণিক পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও পাকুন্দিয়া পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে জানাই, এ বিষয়ে যা যা পদক্ষেপ নেওয়ার তা করার জন্য। আহত রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসা ও ভ্যাকসিনের সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছি এবং আমি সংসদ থেকে পাকুন্দিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছি।