ডিজেল সংকটে বোরো ধান চাষে বিপাকে চাষিরা

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কয়েকদিন ধরে জ্বালানি তেল প্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কার কারণে বোরো ধান চাষে বিপাকে চাষিরা। সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। এমন কথায় জানালেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আংদিয়া গ্রামের কৃষক আশরফ আলী। চলতি মৌসুমে আড়াই বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করছেন। তিনি বলেন, সেচের অভাবে জমির ধান মরে যাচ্ছে। জমি সেচ দিতে একদিন পরপর ৪ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। তিনি পাচ্ছেন সপ্তাহে ২ লিটার। তেল নিতে পাম্পে গেলে লাইনে দাঁড়িয়ে তাকে পুরো দিন বসে থাকতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে ধান মরে মাঠ সাদা হয়ে যাবে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই কৃষক।

আশরফ আলী জানান, কাতলামারী পাম্প, আমলা পাম্প, মিরপুর পাম্পে তেল না থাকায় কুষ্টিয়া থেকে ৩ লিটার তেল এনেছিলাম। সেই তেল দিয়ে পানি নিয়েছি। না হলে ধান শুকিয়ে যেতো। আড়াই বিঘা ধানের জমিতে একদিন পরপর পানি দেওয়া লাগে। ৪ লিটারের পরিবর্তে ২ লিটার তেল ব্যবহার করে কোনো রকম জান বাঁচানোর মতো পানি দিচ্ছি জমিতে।’ এ চিত্র শুধুমাত্র কৃষক আশরফ আলীর নয়। কয়েকদিন ধরে জ্বালানি তেল প্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কার কারণে সেচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কুষ্টিয়ার প্রায় সব এলাকার ধান চাষিরা। তারা জানান, বেশিরভাগ সময়ই তেলের অভাবে সেচ পাম্পগুলো বন্ধ থাকছে। প্রয়োজন মতো ডিজেল না পাওয়ায় জমি সেচ দিতে সমস্যা হচ্ছে তাদের। একই এলাকার কৃষক আনিস বলেন, জনপ্রতি ২ লিটার করে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে। আমার প্রয়োজন ১০ লিটার, পাচ্ছি ২ লিটার। এই তেল দিয়ে কাজ তো হয় না, নাম মাত্র যা হয়, তাই করছি। তেল নিতে গিয়ে লাইনে দাঁড়ালেই দিন শেষ, ফলে অন্য কাজ হচ্ছে না।

তেল পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা পর্যাপ্ত তেল না পাওয়ার কারণে এ অবস্থা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের তারা চাহিদার তুলনায় কম হলেও তেল দিচ্ছেন।

কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, কৃষি জমিতে সেচের জন্য কুষ্টিয়ার ছয়টি উপজেলায় ২৫ হাজার ৭৫৫টি অগভীর এবং ২২৬টি গভীর ও ২৯৭টি এলএলপি পাম্প রয়েছে। এসব পাম্পের মধ্যে ৪ হাজার ২০১টি বিদ্যুৎ চালিত এবং ২২ হাজার ৭৭টি ডিজেল চালিত। যার মাধ্যমে ৮৮ হাজার ৭৪৮ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হয়।

কুষ্টিয়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শওকত হোসেন ভুঁইয়া বলেন, কৃষকরা যাতে ঠিকমতো জমি সেচ দিতে পারেন এজন্য আমরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। কৃষকরা যাতে সেচের জন্য ডিজেল পান এজন্য আমরা তৎপর রয়েছি।

তিনি আরও বলেন, কুষ্টিয়ার বেশিরভাগ এলাকা জিকে সেচ প্রকল্পের আওতায় হওয়ায় কৃষকদের তেমন স্যালো ইঞ্জিন চালিত এবং বৈদ্যুতিক পাম্পের সেচের প্রয়োজন হয় না।

মিরপুর উপজেলার কচুবাড়িয়া গ্রামের কৃষক লোকমান হোসেন এবার ৫ বিঘা জমিতে ধান চাষ করছেন। তিনি বলেন, টিভিতে দেখছি তেল আছে, কিন্তু আমরা কৃষকরা তো তেল পাচ্ছি না। আমার প্রতিদিন সেচের জন্য ৫ লিটার তেল প্রয়োজন। পাম্পে গেলে প্রতিদিন ২০০ টাকার তেল দিচ্ছে। পানি দিতে না পারলে ধান মরে যাবে। আমরা ধান চাষিরা একদম মরে যাব।