বর্জ্য ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে চসিক ও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের বৈঠক

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম শহরের পরিবেশগত অবকাঠামো আধুনিকায়নের লক্ষ্যে গৃহীত ‘ইন্টিগ্রেটেড সলিড ওয়েস্ট অ্যান্ড ড্রেনেজ ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট’-এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) কার্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে নেদারল্যান্ড দূতাবাসের প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস থেকে আগত বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান সুইপস্মার্ট এবং সিডিআর ইন্টারন্যাশনালের কারিগরি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় চট্টগ্রাম মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ড্রেনেজ পরিষ্কারকরণ প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও টেকসই সমাধানের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে চসিকের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) ফরহাদুল আলম, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি, মেয়রের জলাবদ্ধতাবিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ প্রমুখ অংশ নেন।

বৈঠকে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের প্রতিনিধিদলের আরও উপস্থিত ছিলেন প্রথম সচিব দূতাবাসের প্রথম সচিব ইঙ্গে ক্লাসেন, বিশেষজ্ঞ নিল্টজে কিলেন, সিনিয়র পলিসি অফিসার শিবলী সাদিক। বিশেষজ্ঞ দলটি ‘ইন্টিগ্রেটেড সলিড ওয়েস্ট অ্যান্ড ড্রেনেজ ম্যানেজমেন্ট’ বিষয়ক প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্পের ফলাফল উপস্থাপন করেন। চসিকের পক্ষ থেকে এই স্টাডি বা গবেষণার ভূয়সী প্রশংসা করা হয় এবং প্রতিবেদনটি হাতে পাওয়ার পর তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়। বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পদ্ধতির প্রয়োগ চট্টগ্রামের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

প্রকল্পের টেকসই বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের বিভিন্ন মডেল নিয়ে আলোচনা করা হয়। নেদারল্যান্ডসের পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতের বিশ্বমানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চসিক আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি নিশ্চিতকরণের বিষয়ে চসিকের পক্ষ থেকে ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়।

সফরের অংশ হিসেবে ডাচ রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলটি হালিশহর ল্যান্ডফিল এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পরিদর্শন করেন। ?চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নেদারল্যান্ডস আমাদের একটি কৌশলগত অংশীদার। এই প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্পের ফলাফল এবং পরবর্তীতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে একটি পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক রূপ দেবে।