ভূগর্ভস্থ পানি ও ডিজেল সংকট, বিপাকে কৃষক
প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি

শস্যভান্ডার খ্যাত পাবনার চাটমোহরসহ চলনবিলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া ও ডিজেল সংকটের কারণে বোরো আবাদ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। চাটমোহরসহ আশপাশের এলাকায় ডিজেল সংকট এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় বোরো আবাদ চরম সেচ সংকটের মুখে পড়েছে।
চাটমোহরে পানির স্তর অনেক নিচে নেমে যাওয়ায় গভীর নলকূপ থেকেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কৃষকদের অনেক গভীরে গর্ত করে পাম্প বসাতে হয়েছে। পানি কোনো মতে পাওয়া গেলেও চাহিদা মোতাবেক ডিজেল পাওয়া না যাওয়ায় বেশির ভাগ সময় সেচ পাম্প বন্ধ করে রাখা হচ্ছে।
কৃষকরা জানিয়েছেন, চাহিদা মতো ডিজেল না পাওয়া এবং ১২০ ফুট গভীরেও পানি না পাওয়ায় অনেক কৃষক সেচ দিতে পারছেন না। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কৃষক আফজাল হোসেন বলেন- পানির অভাবে জমির আবাদ ঠিকমতো হচ্ছে না, ধানের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেকে চড়া দামে ডিজেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রায় ৬২-৬৫ শতাংশ বোরো জমিতে ডিজেল চালিত সেচ পাম্প ব্যবহৃত হয়, যা এই জ্বালানি সংকটে হুমকির মুখে পড়েছে। চলনবিলের কৃষক ইকবাল কবীর জানান, ডিজেলের চাহিদা প্রতিদিন ১০ লিটার থাকলে পাম্পে পাওয়া যাচ্ছে ২ লিটার। অথচ খোলা বাজারে বেশি টাকা দিলেও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে। চাটমোহর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।
ডিজেল সংকটে বোরো উৎপাদনের উপর প্রভাব পড়বে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের সংকট থাকলে বোরো আবাদে ওপর প্রভাব অবশ্যই পড়বে। আশা করছি এ সংকট থাকবে না।এদিকে চাটমোহর বিভিন্ন মাঠে বোরো ধানের জমির আগাছা পরিষ্কার ও বালাইনাশক স্প্রে করছেন। দিগন্ত মাঠ এখন সবুজের সমারোহ। লোডশেডিং ও সেচ সংকট না হলে কৃষক চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার চাটমোহর উপজেলাতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে। একাধিক কৃষক জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ থাকায় ধানের চারা রোপণ যথাসময়ে শেষ করা যাচ্ছে। তবে বাজারে সারের দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে কৃষকের অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ জানান, বোরো ধানের উৎপাদনে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সব ধরণের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। চাহিদা মোতাবেক ডিজেল সরবরাহের চেষ্টা চলছে।
