দোহাজারীতে সড়ক পুনরুদ্ধার

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভায় পাঁচ দশক ধরে বেদখল হতে হতে আইলে রূপান্তরিত হওয়া একটি সরকারি রাস্তা উদ্ধার করেছেন চন্দনাইশ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দোহাজারী পৌরসভার প্রশাসক ঝন্টু বিকাশ চাকমা।

গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দোহাজারী পৌরসভার প্রশাসক ঝন্টু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে চন্দনাইশ উপজেলা ও দোহাজারী ভূমি অফিস এবং দোহাজারী পৌরসভার কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাস্তার জায়গা পরিমাপ করে প্রাথমিকভাবে ৩৯ শতক জায়গা পুনরুদ্ধার করে কংক্রিটের খুঁটি স্থাপন করে সীমানা নির্ধারণ করা হয়।

জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত ২৫ ফুট চওড়া জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি বেদখল হতে হতে আইলে রূপান্তরিত হয়েছে। দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন থেকে বড়ুয়াপাড়া, সাতছড়ি, ময়নার বাপের পাহাড় হয়ে হিমছড়ি পর্যন্ত দোহাজারী পৌরসভার ৭ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর-দক্ষিণের সীমানা নির্ধারণী সড়কটি স্থানীয়দের কাছে ‘মোটর রাস্তা’ হিসেবে পরিচিত। ১৯৪০ সালে ব্রিটিশ ও জাপানের মধ্যে সংঘটিত দেশ দখলের যুদ্ধে ব্রিটিশ সৈন্যরা নিরাপত্তা জনিত কারণে জনবহুল এলাকা এড়িয়ে কমসংখ্যক মানুষ চলাফেরা করেন এমন এলাকায় ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা করেন। তারই প্রেক্ষিতে দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন থেকে আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে হিমছড়ি এলাকায় গহীন পাহাড়ে ক্যাম্প স্থাপন করেন তারা। যুদ্ধকালীন সময়ে ওই ক্যাম্পে অবস্থান করে ব্রিটিশ সৈন্যরা যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। ব্রিটিশ সৈন্যদের যুদ্ধাস্ত্র, রসদসহ প্রয়োজনীয় মালামাল ওই ক্যাম্পে আনা-নেওয়ার জন্য দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশন থেকে হিমছড়ি পর্যন্ত ২৫ ফুট চওড়া এবং প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। সাতছড়ি খালের ওপর একটি কংক্রিটের সেতুও নির্মাণ করা হয়। যুদ্ধকালীন সময়ে সড়কটি দিয়ে ব্রিটিশ সৈন্যদের যুদ্ধযানের পাশাপাশি রসদবাহী বড় বড় ট্রাক চলাচল করলেও যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ক্যাম্পটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। এরপর ‘মোটর রাস্তা’ দিয়ে সৈন্যদের চলাচল বন্ধ হয়ে গেলেও এলাকার লোকজন চলাচল করার পাশাপাশি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল আনা-নেওয়ার জন্য সড়কটি ব্যবহার করতেন। সড়কটি পুনরুদ্ধার করে পুনরায় জনচলাচল ও যানচলাচলের উপযোগী করার জন্য দৈনিক ভোরের দর্পণসহ জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর ২০২২ সালের ২২ মে দোহাজারী পৌরসভার তৎকালীন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর রাজিয়া সুলতানা রাজু তৎকালীন পৌর প্রশাসক বরাবরে একটি আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে তৎকালীন পৌর প্রশাসক নাছরীন আক্তার সড়কটি সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশনা দিলেও বিষয়টির আর অগ্রগতি হয়নি। এরপর গত ৯ ডিসেম্বর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও দোহাজারী নাগরিক কমিটির প্রচার সম্পাদক জাবের বিন রহমান আরজু উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে রাস্তাটি পুনরুদ্ধারের জন্য জনস্বার্থে একটি আবেদন করেন। সেই প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশনা প্রদান করেন।

পুনরুদ্ধার রাস্তার জায়গা পুনরায় যাতে বেদখল না হয় সে জন্য দ্রুততম সময়ে রাস্তাটি ব্রিক সলিং দ্বারা সংস্কার করে রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য দোহাজারী পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও দোহাজারী পৌরসভার প্রশাসক ঝন্টু বিকাশ চাকমা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সার্ভেয়ার মো. আবু তাহের, পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী তিলকানন্দ চাকমা, দোহাজারী ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইলিয়াছ।