নওগাঁয় ৩ মাস ধরে নেই জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁয় হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন। আর ভ্যাকসিন না থাকায় সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে এসে বিড়ম্বনা ও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বাইরের ওষুধের দোকান থেকে কিনে ভ্যাকসিন পুশ করতে হচ্ছে। জলাতঙ্কের টিকা কুকুর, বিড়াল বা অন্যান্য বন্যপ্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর মৃত্যু ঠেকাতে শতভাগ কার্যকর। যা সরকারি হাসপাতালে এ ভ্যাকসিনটি বিনামূল্যে পাওয়া যায়। কিন্তু গত তিনমাস থেকে হাসপাতালগুলোতে সরবরাহ নেই।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন ভ্যাকসিনটি টেন্ডারে যোগ না করায় সরবরাহ করা হয়নি। আর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে- অধিদপ্তর থেকে সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ৩০ লাখের বেশি জনগোষ্ঠীর বসবাস। নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবার মান ভালো হওয়ায় উপজেলা এমনকি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকেও চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন মানুষ। প্রতিদিন এ হাসপাতালে প্রায় শতাধিক আক্রান্ত মানুষ সেবা নেয়। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সেবা নেয় ৫-৭ জন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকায় জেলা হাসপাতালে চাপ বেড়েছে।
বর্তমানে কুকুর, বিড়াল এবং বন্যপ্রাণী শিয়াল ও বেজি দ্বারা মানুষ আচড় ও কামড়ে আহত হচ্ছে। তবে পোষাপ্রাণি বিড়ালের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন নিতে মানুষের মধ্যে সচেতনা বেড়েছে। বিনামূল্যে সরকারি হাসপাতাল থেকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়। কিন্তু গত তিনমাস থেকে এ ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে মানুষকে ওষুধের দোকান থেকে প্রতি ডোজ ৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। অনেকে যৌথভাবে কিনায় খরচ কম পড়ছে। আবার অনেকে কাউকে না পেয়ে পুরো ডোজ একাই কিনতে হচ্ছে। এতে সেবা নিতে আসা মানুষের মধ্যে হয়রানি ও ভোগান্তি বেড়েছে।
মান্দা উপজেলার আন্ধারিয়াপাড়া গ্রামের গৃহবধূ মেঘনা। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জলাতঙ্ক কর্ণারে ভ্যাকসিন দিতে এসেছেন। তিনি বলেন- কুকুরে বাম হাতে কামড় দিয়েছে। হাসপাতালে কাউন্টারে টিকিট করে জলাতঙ্ক কর্ণারে আসা হয়। এখানে টিকিট দেখানোর পর বলা হয় বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে নিয়ে আসার জন্য। বাধ্য হয়ে বাইরে ঔষধের দোকান থেকে কিনে নিয়ে এসে ভ্যাকসিন দিতে হয়েছে।
মান্দা থেকে শহিদুল ইসলাম বিপ্লব বলেন- বিনামূল্যে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন নিতে নওগাঁ সদর হাসপাতালে আসা। কিন্তু হাসপাতাল থেকে কোনো ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হচ্ছে না। বাইরের ওষুধের দোকান থেকে কিনতে হয়েছে। তিন ডোজ ভ্যাকসিন দিতে হবে এতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা খরচ পড়বে। আমরা গরিব মানুষ। এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দেখার অনুরোধ করছি।
শহরের পার-নওগাঁর গৃহবধূ আসমা খাতুন বলেন- ৮ বছরের ছেলেকে বিড়ালে আচড় দিয়েছে। হাসপাতালে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য আসলে বলা হয় বাইরে থেকে কিনতে হবে।
সরকারি হাসপাতালে আসা হয়েছে বিনামূল্যে সেবা নেওয়ার জন্য। সেখানে কেন নিজ থেকে কিনতে হবে। পরে চারজন যৌথভাবে একটি ভায়েল ৫০০ টাকায় কিনতে হয়েছে। এর সঙ্গে সিরিঞ্জ আরও চারটি। জনপ্রতি মোট ১৩৫ টাকা করে খরচ পড়েছে। যদি যৌথভাবে না কিনতাম বা কেউ যদি আগ্রহ না দেখাতো তাহলেও পুরোটাই নিজ থেকে কিনতে হতো। আগামীতে আরো ২ বার ভ্যাকসিন কিনতে হবে।
নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান বলেন- প্রতিদিন হাসপাতালে প্রায় ১০০ জন জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন গ্রহণ করছে। তবে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকে হাসপাতালে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আর আগের টেন্ডারে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন ছিল না। আমি হাসপাতালে যোগদান করে প্রায় একমাস হয়েছে। নতুন করে সামনের জুনে যে টেন্ডার হবে সেখানে আবার জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন যুক্ত করা হবে। তবে রোগীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে চারজন মিলে একটি ভায়েল কিনে ভ্যাকসিন গ্রহণ করার জন্য। এতে তাদের খরচ কিছুটা কমবে।
নওগাঁ সিভিল সার্জন কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হতো। তবে গত কয়েক মাস থেকে হাসপাতালগুলোতে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে পত্নীতলা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন রয়েছে। তারা স্থানীয়ভাবে ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে সরবরাহ করছে। প্রতিদিন সেখানে ৫-৬ জন জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন গ্রহণ করে থাকে। তবে আগামীতে ভ্যাকসিন আসার কথা রয়েছে।
