কুমারখালীতে ভুয়া ডাক্তারের কারাদণ্ড
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে হাফেজ মো. ইব্রাহিম খলিলল্লাহ নামের এক হাতুড়ে ডাক্তারকে একবছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়াও অনির্দিষ্টকালের জন্য ওই ডাক্তারের চেম্বারটি সিলগালা করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের বেলগাছি গগণ হরকরা মোড় এলাকায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যৌথ অভিযান চালায়। হাতুড়ে চিকিৎসক ইব্রাহিম খলিলল্লাহ শিলাইদহ ইউনিয়নের দাঁড়িগ্রামের রশিদ শেখের ছেলে ও বেলগাছি মেডিকেল হলের মালিক।
অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫২ ধারায় আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার। আদালত পরিচালনায় সহযোগীতা করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক মোছা. শামিমা আক্তার, থানা পুলিশ প্রমুখ। ভ্রাম্যমাণ আদালত ও লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, হাফেজ মো. ইব্রাহিম খলিলল্লাহ কয়েকবছর আগে মসজিদের ইমামতি করতেন। এরপর মানবিক বিভাগ থেকে ২০১৪ সালে এসএসি পাশ করেন। পরে একটি কলেজ থেকে ডিগ্রি পাস করেন। ২০২৩ সালে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মাত্র ২১ দিনের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ নেন। এরপর তিনি বেলগাছি গগণ হরকরা মোড় এলাকায় বেলগাছি মেডিকেল হল নামে একটি চেম্বার খুলে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সি মানুষকে সব রোগের চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন। সম্প্রতি কয়েকজন শিশু চুলকানি রোগের জন্য তার কাছে গেলে তিনি তাদের আলফাকোর্ট নামের এক ধরনের স্টেরোয়েড ইনজেকশন দেন। ইনজেকশনের পর থেকে শিশুদের কারও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে উঠছে, কারও মুখে গজাচ্ছে লোম। এতে অন্তত ১০ শিশুর জীবন বিপন্ন হতে বসলে ৮ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরবার লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী সাত অভিভাবক। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক মোছা. শামিমা আক্তার বলেন, মাত্র ২১ দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি (ইব্রাহিম) ক্লিনিকের মতো চেম্বার খুলে চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। এমনকি স্টেরোয়েড জাতীয় চিকিৎসাও দিচ্ছিলেন। যা তিনি করতে পারেন না। এতে অনেকের জীবন বিপন্ন হতে বসেছে। এমন কয়েকজন শিশুর অভিভাববের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচিলনা করা হয়েছে। তার ভাষ্য, এখন হাতেই কাছেই অনেক সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র আছে। সুতরাং সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এক হাতুড়ে চিকিৎসককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে একবছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
