কেশবপুরে প্রাথমিকে শিক্ষক সংকট, ৮৬ পদ শূন্য

প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মশিয়ার রহমান, কেশবপুর (যশোর)

যশোরের কেশবপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ৮৬ শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। অবসরজনিত কারণে ৩৪ জন প্রধান শিক্ষক ও ৫২ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় ওইসব বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালনাসহ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফি সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলায় ১৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ সব বিদ্যালয়ের মধ্যে বরণডালী আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপসানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালিয়ারই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পল্লী মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামকৃঞ্চপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাসানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নেহালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেঘরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঝিকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতাপপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোমরপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেউলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হিজলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ল´ীনাথকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মির্জাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিসমত সানতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালচিরণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সারুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিমপুর পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঁচবাকাবর্শী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাকাবর্শি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাঁজিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাড়িয়াঘোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেলকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডোঙ্গাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গড়ভাঙ্গা মাছপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাতাইশকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজনগর বাকাবর্শি মোড়ল পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেতীখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৃঞ্চনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়েঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খতিয়াখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এছাড়া, উপজেলাব্যাপী ৫২ জন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে পড়ে আছে। এ কারণে ওইসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনাসহ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ সব এলাকা থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ওই বিদ্যালয় গুলোর শূন্যপদ পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক মিলে মোট ৮৬ শিক্ষক অবসরে যাওয়ার কারণে পদগুলো শূন্য হয়ে আছে। সে কারণে শ্রেণি কক্ষে পাঠদানে চরম ব্যাহত হচ্ছে। আমরা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মিটিং করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মহোদয় নজরুল ইসলাম স্যারকে জানানোর পর তিনি দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছেন।

কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শাহিনুর রহমান শহিন বলেন, একাধিক শিক্ষক অবসরে যাওয়ার কারণে ওই বিদ্যালয় গুলিতে শূন্যপদ রয়েছে। তাড়াতাড়ি ওই সব বিদ্যালয়ে দ্রুত শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ না দিলে আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান নষ্ট হয়ে যাবে। বিষয়টি নিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করেছেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে তালিকা পাঠনো হয়েছে হয়েছে বলে জানান।