মুরাদনগরে বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সৃজনশীলতাকে শাণিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, ১০ম বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড এবং ১০ম বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতার দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের সফল সমাপ্তি ঘটেছে। ‘উদ্ভাবননির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি’ এই সুদূরপ্রসারী প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই জ্ঞানভিত্তিক মহোৎসবে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা পরিষদের কবি নজরুল মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়, যা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম সারোয়ার রাব্বী এ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম তালুকদারের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খান।
এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলেন, উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী পূর্ণ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পাভেল খান পাপ্পু, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার কোহিনুর বেগম এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুফি আহমেদসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।
প্রতিযোগিতার দিনগুলোতে কবি নজরুল মিলনায়তন চত্বর যেন এক ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের গবেষণাগারে পরিণত হয়েছিল।
শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং প্রযুক্তির সহজলভ্যতা নিয়ে নানামুখী প্রকল্প প্রদর্শন করে। বিচারকম-লী শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনা ও বৈজ্ঞানিক যৌক্তিকতা দেখে অভিভূত হন। অলিম্পিয়াড ও কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল তীব্র লড়াই, যা তাদের বিষয়ভিত্তিক গভীর জ্ঞানের প্রতিফলন ঘটায়।
সমাপনী দিনে আমন্ত্রিত অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়ার সময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, মুরাদনগরের এই মেধাবী মুখগুলোই ভবিষ্যতে দেশের বড় বড় চ্যলেঞ্জ মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেবে। প্রশাসনের এমন উদ্যোগ গ্রামীণ জনপদের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলার পাশাপাশি একটি মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে স্থানীয় সুধীমহল মনে করছেন।
শেষমুহূর্তে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি শুধু একটি প্রতিযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে বিজ্ঞানের এক মিলনমেলায় রূপ নেয়।
