২৫ দিন পর দেশে ফিরল সৌদি প্রবাসীর লাশ
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
মেহেরপুর প্রতিনিধি
২৫ দিন পর দেশে ফিরেছে সৌদি প্রবাসী শাফিউল ইসলামের (৩৫) লাশ। গতকাল শনিবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে কসবা কেন্দ্রীয় কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে, গত শুক্রবার রাতে একটি ফ্লাইটে তার লাশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে শনিবার ভোরে লাশ নিজ গ্রাম কসবায় নেওয়া হয়।
শাফিউল ইসলাম মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কসবা গ্রামের আবুল ফজলের ছেলে। পরিবারের স্বপ্ন পূরণে এবং দুই কন্যা সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে মাত্র এক বছর আগে তিনি পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। কিন্তু প্রবাস জীবনের এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা তার জীবন কেড়ে নেয়। জানা গেছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি বহুতল ভবনে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন শাফিউল ইসলাম।
সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কিং খালেদ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং সেখানে নিবিড় চিকিৎসা চলতে থাকে। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। গত ২৩ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছালে কসবা গ্রামে নেমে আসে গভীর শোক। স্ত্রী, দুই কন্যা, বাবা-মা ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
মৃত্যুর পর প্রশাসনিক নানা জটিলতা, দূতাবাসের অনুমতি ও ফ্লাইট ব্যবস্থার কারণে লাশ দেশে আনা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ ২৫ দিন পর অবশেষে গত শুক্রবার রাতে একটি ফ্লাইটে তার লাশ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সেখান থেকে গতকাল ভোরে লাশ নিজ গ্রাম কসবায় আনা হয়। লাশ গ্রামে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শেষবারের মতো শাফিউলকে দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারি ও বুকফাটা কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটিকে হারিয়ে পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শাফিউল দেশে থাকলে ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। তিনি ছিলেন পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের একজন মানুষ। পরিবারের স্বচ্ছলতার জন্য মাত্র এক বছর আগে তিনি প্রবাসে যান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিণতিতে তাকে লাশ হয়ে ফিরতে হলো। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে শাফিউলের বাবা আবুল ফজল বলেন, আমার ছেলে আমাদের পরিবারের স্বপ্ন ছিল।
সে দেশে থেকে কষ্ট করে কাজ করতো, পরে আমাদের ভালো রাখার জন্য বিদেশে গিয়েছিল। কিন্তু আমরা ভাবিনি সে এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে। এখন তার দুইটা ছোট মেয়ে নিয়ে আমরা কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না। আল্লাহ যেন আমার ছেলেকে জান্নাত দান করেন।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রবাসে কর্মরত অবস্থায় এমন একটি দুর্ঘটনায় একজন যুবকের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।
