‘চট্টগ্রাম বন্দরের সম্ভবনা কাজে লাগাতে সবাইকে কাজ করতে হবে’

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক হৃৎপিণ্ড। বন্দরের উন্নতি মানে দেশের সামগ্রিক উন্নতি। বন্দরের সম্ভবনা কাজে লাগাতে সকলকে বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করতে হবে। প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম বন্দরের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিজেদের অবস্থানের বাইরে এসে বৃহত্তর স্বার্থে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যে যার সংস্থার পক্ষে কথা বলি ঠিক আছে, কিন্তু রাষ্ট্রের স্বার্থটা যদি একটু বড় করে দেখি, অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যায়।

গতকাল রোববার চট্টগ্রাম বন্দরের কনফারেন্স রুমে বন্দর সংশ্লিষ্ট সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সভায় টারিফ, শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি, কাস্টমসের কার্যক্রমসহ নানা বিষয় উঠে আসে। মন্ত্রী জানান, এসব বিষয় নিয়ে ঢাকায় ফিরে পর সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এসময় তিনি কাস্টমসের ভূমিকা নিয়ে কিছুটা অসন্তোষের উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শুধু ব্যাখ্যা দিলেই হবে না। সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করতে হবে। এখানে যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, সেটা কোনো সংস্থার অদক্ষতার কারণে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। কাস্টমসের কার্যকারিতা বাড়াতে আলাদা করে আলোচনা করবেন বলে আশ্বাস জানান নৌ-পরিবহন মন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘বন্দর এখন শুধু সম্ভাবনাময় নয়, এটি একটি প্রতিষ্ঠিত পোর্ট। সামনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সবার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে, কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ও দিতে হবে।’ কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কাজ করতে গেলে কিছু সমস্যা থাকবেই। কখনো কন্টেইনার জট হবে, আমদানিকারকও বিপাকে পড়তে পারেন। তবে এসব সমস্যাকে কমিয়ে এনে বড় পরিসরে বন্দর ও রাষ্ট্রের লাভ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

ব্যবসায়ীদের মনোভাব নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, আলোচনার টেবিলে অনেক সময় সবাই নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু বাস্তবে ব্যবসা পুরোপুরি থেমে নেই। আমাদের একটা প্রবণতা আছে, বার্গেনিংয়ের সময় নিজেদের বেশি অসহায় দেখানো। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ব্যবসা চলছে, প্রবৃদ্ধিও হচ্ছে।’ মন্ত্রী আরও বলেন, মাস শেষে লাভ হয়েছে কিনা। এই হিসাবের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি লাভ, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুযোগ, এসব নিয়েও ভাবতে হবে। আজ কিছু ছাড় দিলে হয়তো কাল আপনার পরের প্রজন্ম আরও ভালোভাবে ব্যবসা করতে পারবে।

রেলপথে কার্গো পরিবহন বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যেখানে মাত্র ৪ শতাংশ কার্গো রেলে পরিবহন হয়, সেটি ১৬ থেকে ১৮ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ না থাকলেও এরইমধ্যে সক্ষমতা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল সমস্যা শোনা ও বোঝা। সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান হয়তো হয়নি, কিন্তু আমরা কী করতে পারি, সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছি।

সবাই যদি কিছুটা ছাড় দিই এবং রাষ্ট্রের স্বার্থকে প্রাধান্য দিই, তাহলে দ্রুত অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। এসময় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামানসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।