উন্মুক্ত স্থানে ময়লার ভাগাড় ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  মাহমুদুল হাসান কবির, পাথরঘাটা (বরগুনা)

পাথরঘাটা পৌর শহরে নির্দিষ্ট বর্জ্য ফেলার স্থান না থাকায় জনবহুল এলাকায় গড়ে উঠেছে অস্থায়ী ময়লার ভাগাড়। এতে করে চরম ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে স্বাভাবিক চলাচলই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বাধ্য হয়ে বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলছেন। কখনও তা ফেলা হচ্ছে বিষখালী নদীতে, আবার কখনও জনবসতিপূর্ণ এলাকার পুকুরপাড়ে- যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মী নবী হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি, কিন্তু ময়লা ফেলার কোনো নির্দিষ্ট স্থান নেই। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন জায়গায় ফেলতে হচ্ছে। যদি একটি নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্পট বা ময়লা ফেলার ঘর করে দেওয়া হতো, তাহলে নিয়মিত সেখানে ময়লা ফেলতে পারতাম।

যে স্থানে ময়লা ফেলা হচ্ছে, সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকা। এর পাশেই রয়েছে পৌরবাসীর একমাত্র সুপেয় পানির উৎস- রিজার্ভ পুকুর। এই পুকুরের পানি ফিল্টার করে পৌর শহরসহ পার্শ্ববর্তী দুটি ইউনিয়নের মানুষ পান করে থাকে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পাথরঘাটায় পানির লবণাক্ততা বেশি হওয়ায় গভীর নলকূপ স্থাপন সম্ভব নয়, ফলে এই পুকুরের পানির ওপরই নির্ভরশীল অধিকাংশ মানুষ। এছাড়াও ময়লার স্তূপের অদূরেই অবস্থিত পাথরঘাটা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাথরঘাটা সরকারি কেএম পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে এবং বিদ্যালয়ে ক্লাস ও বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেয়। দুর্গন্ধ ও বায়ুদূষণের কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির প্রতিষ্ঠাতা ও মানবিক কর্মী মেহেদী শিকদার বলেন, এটি অত্যন্ত জনবহুল এলাকা। মাত্র ১০০ গজের মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পৌরবাসীর প্রাণ রিজার্ভ পুকুর এবং অসংখ্য বসতবাড়ি। এমনকি পৌর ভবনও কাছাকাছি। এত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ময়লা ফেলা হচ্ছে- এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত এই স্থান থেকে ময়লা অপসারণ করে নির্দিষ্ট ডাম্পিং ব্যবস্থা না করলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত একটি নির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন, জনবহুল এলাকায় ময়লা ফেলা বন্ধ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালুর দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বায়ুদূষণ, পানিদূষণ এবং সংক্রামক রোগের ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।