নিখোঁজের সাতদিন পর ডোবা থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিখোঁজের ৭ দিন পর ৭ মাস বয়সি এক শিশুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এর আগে সকাল ১০টায় উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি এলাকার বিলের একটি ডোবা থেকে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশু তানভীর আহম্মেদ মুজাহিদ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি পুরানগাঁও এলাকার মেরাজ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে নিহত শিশুর বাবার বিরুদ্ধে। লাশ উদ্ধারের পর থেকে মেরাজ মিয়া ও তার মা রাবেয়া পলাতক।
স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় দুই বছর আগে ভৈরব উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের মানিকদি গ্রামের তাসলিমা বেগমের সঙ্গে একই ইউনিয়নের পুরানগাঁও এলাকার ফেলু মিয়ার ছেলে মেরাজ মিয়ার প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে হয়। সাত মাস আগে তাদের এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। কিছুদিন আগে স্বামী ও শাশুড়ির সঙ্গে তুচ্ছ পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হওয়ার পর তাসলিমা বেগম তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন।
কয়েকদিন পর গত ১৬ এপ্রিল শিশুটির দাদি এসে অসুস্থ নাতিকে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে তাসলিমার কাছ থেকে নিয়ে যান। কিন্তু সারাদিন পেরিয়ে গেলেও তিনি আর শিশুকে মায়ের কাছে ফেরত দিয়ে যাননি। পরদিন তাসলিমার বাবার বাড়ির লোকজন শিশুকে ফিরিয়ে আনতে মেরাজ মিয়ার বাড়িতে গেলেও সেখানে শিশু তানভীরকে পাওয়া যায়নি। পরে, গত ২১ এপ্রিল শিশুর মা তাসলিমা বেগম ভৈরব থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা ধানের জমি দেখতে গিয়ে একটি ডোবায় শিশুর লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।
শিশুটির মা তাসলিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর বাবার বাড়িতে চলে আসি। পরে আমার শাশুড়ি এসে ওষুধ কিনে দেওয়ার কথা বলে আমার সন্তানকে নিয়ে যায়। এর পর থেকেই সে নিখোঁজ হয়। পরিকল্পিতভাবে আমার সন্তানকে আমার স্বামী হত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই। ভৈরব থানার এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এরপর, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লাশটি অর্ধগলিত অবস্থায় পাওয়া গেছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি বিষয় প্রক্রিয়াধীন।
