ফেনীতে পাঁচ বছরে এসএসসি পরীক্ষার্থী কমেছে ৪০ শতাংশ

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  শাহজালাল ভূঞা

ফেনীতে ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা। ২০২০ সালে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর থেকে প্রতিবছরই এ সংখ্যা কমছে। ২০২২ সালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা গ্রহণের সময় জেলায় ৩৭ হাজার ৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও; সেই সংখ্যা ক্রমেই নিম্নমুখী হয়ে ২০২৬ সালে এসে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৮৯ জনে। ফলে বিগত পাঁচ বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থী কমেছে ১৪ হাজার ৯৯৬ জন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলায় দিনদিন জনসংখ্যা বাড়লেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিম্নমুখী। এজন্য কোভিডকালীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখাকে দায়ী করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

তাদের দাবি, ওইসময় প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা শিশুশ্রম ও অন্যান্য পেশায় জড়িয়ে পড়ে। পরে স্কুল চালু হলেও তাদের প্রতিষ্ঠানে ফেরানোর কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ওই সময়ে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ব্যাচ এখন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। ফলে বিষয়টি ধরা পড়েছে।

এছাড়া ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফেনীতে অন্তত ২৫ হাজার শিক্ষার্থী স্থায়ীভাবে স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে বলে তথ্য উঠে আসে। এরপরও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ নীরব ভূমিকায় থাকায় এ সংখ্যা উর্ধ্বমুখিতা সৃষ্টি করা যায়নি। যার ফলে পাঁচ বছরের মাথায় পরীক্ষার্থীর নিম্নমুখিতার সূচক দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ৪৩ শতাংশে। ফেনী ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ডা. তবারক উল্যাহ চৌধুরী বায়েজিদ তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে বলেন, অশনি সংকেত আমরা কি করছি? ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। ফেনীতে দিনদিন এসএসসি পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়া আমাদের জন্য বেশ উদ্বেগের। সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক দলের নেতারা ও শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের এখনই বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২২ সালে ফেনীতে এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার্থী ছিল ৩৭ হাজার ৮৫ জন। কিন্তু ২০২৩ সালে প্রায় ১৩ হাজার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে দাঁড়ায় মাত্র ২৪ হাজার ৬০০ জনে। ২০২৪ সালে জেলায় ২৪ হাজার ৫৫৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ২০২৫ সালে অংশ নেয় ২৩ হাজার ৬০৯ জন। যা চলতি বছরে নেমে এসেছে ২২ হাজার ৮৯ জনে। জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, এবার ফেনীর ৩৬টি কেন্দ্রে সর্বমোট ২২ হাজার ৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। তাদের মধ্যে এসএসসিতে ১৪ হাজার ৯৪৩ জন, দাখিলে ৫ হাজার ৯৭৭ জন এবং এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালে ১ হাজার ১৬৯ জন পরীক্ষার্থী। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা চলবে ২০ মে পর্যন্ত। আর মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হবে ২৪ মে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফেনী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফী উল্লাহ বলেন, ‘ফেনীতে শিক্ষার্থীদের এসএসসি পাস করানোর আগেই প্রবাসে পাঠানোর প্রস্তুতি হিসেবে কর্মে নিয়োজিত করেন অভিভাবকরা। এর একটি বড় প্রভাব পরীক্ষার্থীর সংখ্যার ওপর পড়েছে। তাছাড়া এখন যারা এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে তারা করোনাকালে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছিল। করোনার পর স্কুল খোলা হলেও শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ অনুপস্থিত হয়ে পড়ে। অনেকেই শিক্ষাজীবনের ইতি টানে।

এতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যায়। যার প্রভাব এখন পর্যন্ত পরীক্ষার্থীর সংখ্যার ওপর রয়ে গেছে। ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ‘করোনা মহামারীকালে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযোগে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ে। সেই ঝরে পড়ার হারের প্রভাব এখন পর্যন্ত রয়ে গেছে। এ ছাড়াও ফেনীতে আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা, কওমি অথবা নুরানি মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতি অভিভাবকদের ঝোঁক এবং অভিভাবকদের মধ্যে প্রবাসমুখিতা থাকায় এর কারণ হতে পারে’। এর ফলে শিক্ষার হার কমে যাচ্ছে কি-না? তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।