বাঞ্ছারামপুরে বিদ্যুৎ ও তেল সংকটে বোরো ধানচাষিরা দিশাহারা

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ ও তেল সংকটে বোরো ধানের জমিতে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। জ্বালানি সংকটে মাঠের ধান রোদে পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি সংকট এতোটাই তীব্র আকার ধারন করেছে যে, কৃষকরা গভীর রাতেও বিদ্যুৎ এর জন্য অপেক্ষা করেন বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় নির্দিষ্ট কোনো তেলের পাম্প নেই। বিভিন্ন দোকানে যাও পাওয়া যা এর মূল্য বেশি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ৯৫৫৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে।

এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ধান ৬৪৫ হেক্টর এবং উফশী জাতের ধান ৮৯১৩ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। সেচের জন্য মোট ৯২৩টি নলকূপ রয়েছে, যার মধ্যে ৪৯৮টি বিদ্যুৎচালিত। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ৫% ধান কর্তন হয়েছে, বাকি ধান অধিকাংশ সফটডাফ, হার্ডডাফ অবস্থায় আছে কিছু ধান ফ্লাওয়ারিং অবস্থায় আছে, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড খরা চলছে এবং বৃষ্টিও হচ্ছে না। যেসব ধান ফ্লাওরিং অবস্থায় আছে, সেক্ষেত্রে এই সময়ে ভালো ফলনের জন্য জমিতে পর্যাপ্ত পানি থাকা জরুরি হলেও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না। ফলে ধানক্ষেত ক্ষতির মুখে পড়েছে।

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর বাঞ্ছারামপুর জোনাল ম্যানেজার গোলাম মর্তুজা জানান, এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ২৩ থেকে ২৪ মেগাওয়াট হলেও বিভিন্ন গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫- ৬ মেগাওয়াট। ফলে পৌরসভাসহ ১৩টি ইউনিয়নে দিনে দুই থেকে তিন ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বিদ্যুৎ অফিসে এসে প্রতিবাদ করছেন।

উজানচর ইউনিয়ন কৃষকনেতা নাসির উদ্দিন বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে বোরো ধান নষ্ট হওয়ার পথে। এতে কৃষকরা ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

মানিকপুর ইউনিয়নের কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন, বিদ্যুৎ তো নেই-ই, ডিজেলও পাচ্ছি না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, এলাকায় বড় ধরনের ডিজেল সংকট নেই, তবে বিদ্যুৎ সংকট প্রকট। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।