রাবিতে রাজনৈতিক সহিংসতায় চার দশকে ৩৩ শিক্ষার্থী খুন

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রাবি প্রতিনিধি

১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনতার পর কিছুদিন শান্ত থাকলেও আশির দশকের শেষ থেকে ছাত্ররাজনীতির সংঘাতে অশান্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। তৎকালীন ছাত্রলীগ, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রমৈত্রী ও ছাত্র ইউনিয়নের ‘সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ’-এর সঙ্গে ছাত্রশিবিরের সংঘাতই ছিল সবচেয়ে বেশি। ১৯৮২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সাড়ে চার দশকে রাজনৈতিক সহিংসতায় মোট ৩৩ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের ১৯ জন, ছাত্রলীগের ৭ জন, ছাত্রদলের ২ জন এবং বাম ছাত্রসংগঠনের ৪ জন রয়েছেন।

আশি ও নব্বইয়ের দশকে শিবির, ছাত্রলীগ, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রমৈত্রীর সংঘর্ষে ধারাবাহিকভাবে একাধিক শিক্ষার্থী নিহত হন। ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষে শিবিরের কয়েকজন কর্মী প্রাণ হারান। ১৯৯২ ও ১৯৯৩ সালেও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের সংঘর্ষ ও হামলায় একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের জেরে আহত এক শিবিরকর্মীর মৃত্যু হয়। ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত সময়েও সহিংসতা থামেনি। এ সময় ছাত্রলীগ ও শিবিরের সংঘর্ষ এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে কয়েকজন শিক্ষার্থী নিহত হন।

২০০৯ সালে শিবির নেতা তৎকালীন সেক্রেটারি শরীফুজ্জামান নোমানী হত্যাকাণ্ড, ২০১০ ও ২০১২ সালে ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ২০১৪ সালের হত্যাকাণ্ড উল্লেখযোগ্য। সর্বশেষ ২০১৬ সালে এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হলেও এ ঘটনায় কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।

এসব হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশ মামলার বিচার হয়নি বা আসামিরা খালাস পেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও তদারকির অভাবে বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, সাক্ষীর অভাব ও বাদীপক্ষের দুর্বলতার কারণে অনেক মামলা টেকসই হয়নি।

এ বিষয়ে রাবি শিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, এই ক্যাম্পাসে আমাদের বহু নেতাকর্মী নিহত ও আহত হয়েছেন। কিন্তু অধিকাংশ ঘটনার সঠিক বিচার হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, এসব ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাদী হয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তার কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই।

তিনি আরও বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ নয় এবং জুলাই-পরবর্তী সময়ে যে নতুন ধারা তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।