দুর্গাপুর পৌরসভায় রাস্তা ও ড্রেনেজ সংকট

প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কলি হাসান, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা)

নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাড়া এলাকায় বৃষ্টির পানি ও রাস্তা সংকট চরমে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। ওই এলাকাটি যেন দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নবঞ্চিত এক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। দক্ষিণপাড়া মন্দির সংলগ্ন বাচ্চু বিশ্বাসের বাড়ি থেকে শুরু করে আব্দুল আলীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৪০০ মিটার এলাকায় বসবাসরত ২৫ থেকে ৩০টি পরিবার বছরের পর বছর ধরে একটি ন্যূনতম চলাচলযোগ্য রাস্তার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনার সসরেজমিনে গেলে এমন ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, এই এলাকাটিতে এখনও পর্যন্ত কোনো পাকা কিংবা কাঁচা রাস্তা নির্মাণ করা হয়নি। ফলে প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম স্কুল, বাজার কিংবা চিকিৎসার জন্য যাতায়াত সবই চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে করতে হয়। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে। বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই দুর্ভোগ বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা।

কাদা ও পানিতে ডুবে থাকা পথ দিয়ে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো- এলাকায় কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তাকে শ্মশানে নেওয়ার মতোও কোনো উপযুক্ত রাস্তা নেই। ফলে স্বজনদের লাশ নিয়ে চরম দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনার শিকার হতেও দেখা গেছে। যা একটি সভ্য সমাজে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক বাস্তবতা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী নেত্রকোনা- ১ আসনের সদস্য সদস্য ও ডেপুটি স্পিকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত আবেদন জানিয়েছেন, যাতে দ্রুত একটি টেকসই ও চলাচলযোগ্য রাস্তা নির্মাণ করা হয়। তাদের বিশ্বাস, জনবান্ধব নেতৃত্বের আন্তরিক উদ্যোগে এই দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান সম্ভব। অন্যদিকে, একই ওয়ার্ডের ঝুমা তালুকদারের রাইস মিল থেকে প্রফেসর মোহনলাল বিশ্বাস বাড়ি পর্যন্ত এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষা এলেই তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে জমে থাকা পানি দীর্ঘদিন ধরে স্থির থাকে, যা পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এতে মশার উপদ্রব বাড়ছে এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের আশঙ্কাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, একাধিকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। ফলে তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছেই।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। একটি টেকসই রাস্তা নির্মাণ এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা চালু করা হলে এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং তারা ফিরে পাবে একটি নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও পৌর প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান জানান, অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা ওর রাস্তা উপছে পানি গিয়ে মানুষের চলাচলের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এটা শুনে সত্যিই কষ্ট লাগলো। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। যতদ্রুত সম্ভব সমাধানকল্পে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।