কিশোরগঞ্জে নতুন করে ২ হাজার হেক্টর বোরো জমি প্লাবিত
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জে গত দুইদিন আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকলেও গতকাল সকাল থেকে সারাদিন মুষলধারে হয়েছে বৃষ্টি। এছাড়া উজানের ঢল অব্যহত থাকায় ২৪ ঘন্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে হাওরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি। বৃষ্টি ও উজানের ঢলে জেলার হাওরাঞ্চলে নতুন করে আরও ২ হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে। এতে করে ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর কৃষকের জমি পানির নিচে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জেলার ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম ও নিকলি উপজেলার হাওরে। শুধুমাত্র ইটনার হাওরে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জেলার নিকলী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আর কয়েকদিন এমন থেমে থেমে বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় কৃষকদের ধান কাটায় সাবধনতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
এদিকে কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, হাওরের ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি ৩.০৬, চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৭৩ এবং অষ্টগ্রামের কালনী নদীর পানি ২.৪৫ মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি কিছুটা কমে ১.৮০ মিটারে নেমেছে, যা গতকালের তুলনায় ৭ সেন্টিমিটার কম।
তিনি আরও বলেন, এখনও সবকটি নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০৯ থেকে ৪০০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তবে বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। ইটনা উপজেলার কৃষক জলিল মিয়া জানান, ‘আমার অনেক ধান পানির নিচে। দুদিন বৃষ্টি ছিলনা তাই যেভাবেই হোক কিছু অংশ কাটতে পেরেছি। এসব দান শুকাতে পারিনি, সব নষ্ট হচ্ছে। আজ বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ভয়ে ধান কাটতে পারিনি।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, ‘হাওরে বোরো আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর জমিতে। হাওরের ৫৬ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। তার মধ্যে শনিবার বিকাল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের তথ্যমতে ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি। প্রকৃতির উপরে তো কারও হাত নেই। তবে বৃষ্টিপাত ও উজানের পানি না বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমবে। তাছাড়া আমরাও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকাও তৈরি করছি। সরকারের পক্ষ থেকে আগামী তিনমাস তাদের জন্য বিশেষ সহায়তার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
