বদলায় না উত্তর তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবন

প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নীলফামারী প্রতিনিধি

তিস্তা নদীর তীরবর্তী জনপদে জীবন যেন প্রতিনিয়ত সংগ্রামের অন্য নাম। প্রকৃতির বৈরী আচরণে জর্জরিত এ অঞ্চলের মানুষ কখনও বন্যার পানিতে ভাসেন, আবার কখনও খরার দহনজ্বালায় পুড়ে যান। বিস্তীর্ণ বালুচর আর নদীভাঙনের মধ্যেই টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন হাজারো পরিবার। বিশেষ করে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের উত্তর পাড়ের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ যেন কোনোভাবেই কমছে না।

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই উজানের ঢলে প্লাবিত হয় গ্রামাঞ্চল। তলিয়ে যায় বসতভিটা, নষ্ট হয় ফসলের খেত, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। আশ্রয়ের খোঁজে পরিবার-পরিজন ও গবাদিপশু নিয়ে অনেকেই উঠে আসেন তিস্তা ডান তীরের বাঁধে। সেখানে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাতে হয় তাদের। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে দেখা দেয় পানির সংকট, ফেটে যায় জমি, দুর্ভোগ যেন দুই মৌসুমেই সমান।

ডিমলা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী এলাকাটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। দক্ষিণ অংশে যোগাযোগ তুলনামূলক সহজ হলেও নদীর উত্তর পাড়ের চারটি ওয়ার্ডের মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টকর। প্রায় ৩০ হাজার মানুষের বসবাস এই ইউনিয়নে, যার একটি বড় অংশই উত্তর পাড়ে বসবাস করেন। উত্তর পাড়ের বাসিন্দাদের জন্য দৈনন্দিন জীবনযাপনই এক বড় চ্যালেঞ্জ। উপজেলা সদর বা ইউনিয়ন পরিষদে যেতে হলে কয়েক কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে, নৌকায় নদী পার হয়ে আবার হাঁটতে হয়। এতে একটি ছোট কাজ সম্পন্ন করতেই কেটে যায় পুরো দিন।

স্থানীয় কলেজ শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই এলাকায় জন্ম নেওয়াটাই যেন আমাদের জন্য আজন্ম কষ্টের শুরু।’

স্কুল শিক্ষিকা খাদিজা বেগম জানান, ‘আমাদের কষ্ট বোঝাতে হলে বন্যার সময় একবার এখানে আসতে হবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহীন ইসলাম বলেন, ‘একটি জন্মসনদ কিংবা নাগরিক সেবা নিতে ৮-১০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়।’ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগও কম নয়।

টেপাখড়িবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমি আক্তার জানায়, প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে হয়, কখনও বালুচর পেরিয়ে, কখনও নৌকায়। বর্ষা মৌসুমে অনেক সময় স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়।স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, মৌলিক নাগরিক সেবা পেতেও তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। একটি সাধারণ কাজ সম্পন্ন করতে সময় ও শ্রম দুটোই বেশি ব্যয় হয়। তিস্তা নদীর উত্তর পাড়ের মানুষের দাবি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও প্রশাসনিক সেবা সহজলভ্য করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। বিশেষ করে একটি পৃথক ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করলে এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কিছুটা হলেও লাঘব হবে বলে মনে করছেন তারা।