কিশোরগঞ্জে নতুন করে তলিয়ে গেছে আড়াই হাজার হেক্টর জমি
প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
শাহজাহান সাজু, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জে গতকাল সকাল থেকেই রোদ উঠেছে। ভোর হতেই পানির নিচ থেকে ধান কাটার চেষ্টা করছেন কৃষকরা। পাশাপাশি মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় নতুন করে আরও আড়াই হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে।
কৃষি বিভাগের হিসাব মতে, এ নিয়ে জেলার ৮ উপজেলার হাওরাঞ্চলে মোট ১২ হাজার ৫২২ হেক্টর জমির ধান এখন পানির নিচে। সবচেয়ে বেশি ডুবেছে ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলার হাওরে। জেলায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৪৯ হাজার ১৫৬ জন। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, উজানের ঢলে আজও বৃদ্ধি পেয়েছে জেলার হাওরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি। পাকা ধানের জমিতে জলাবদ্ধতার কারণে শ্রমিকদের বাড়তি মজুরি দিয়ে কাটতে হচ্ছে ধান। এর আগে রোদের অভাবে নষ্ট হয়ে গেছে শত শত মণ মাড়াই করা ধান। আজ রোদের দেখা মিলাতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে হাওরাঞ্চলে। নিকলী হাওরের কৃষক আলতু মিয়া বলেন, অনেক দিন পর আজ রোদের দেখা পেয়েছি। ভোরে ঘুম থেকে উঠে ভেজা সকল ধান রোদে দিয়েছি। এমন রোদ যদি কয়েক দিন থাকে তাহলে খেতের বাকি ধান কেটে মাড়াই করে শুকাতে পারব।
করিমগঞ্জ বড় হাওরের কৃষক জমির আলী বলেন, বৃষ্টির জন্য আমার মাড়াই করা ৮০ মণ ধান পচে গেছে। আজ (গতকাল) রোদ উঠাতে পানিতে নেমেই বাকি ধান কাটছি। কারণ পানি বাড়ছে, পরে এগুলোও তলিয়ে যাবে। এখন রোদ যদি থাকে তাহলে এ ধানগুলো শুকাতে পারব।
মিঠামইন উপজেলার জিউলের হাওরের কৃষক রহিম মিয়া বলেন, আজ ১৫০০ টাকা করে শ্রমিক নিয়েছি। ধান কাটছি, এখন আল্লাহ জানে কি আছে কপালে। যদি কয়েকটা দিন রোদ থাকে তাহলে আমরা হাওরের সকল কৃষক বাকি ধান ঘরে তুলতে পারব। ক্ষতি যা হওয়ার তা হয়ে গেছে, এটা আর ফিরে আসবে না।
নিকলী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজারভার আখতার ফারুক জানান, ‘গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে আবহাওয়া ভালো ছিল। তবে, হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, আমাদের অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এখন মাঠপর্যায়ে কৃষকের পাশে রয়েছে। এ সময়টাতে কৃষকদের সঠিক পরামর্শ খুব বেশি প্রয়োজন লাগে। আমরা সে কাজটি অধিক গুরুত্বসহকারে করে যাচ্ছি। তাছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করে সরকারের কাছে পাঠানোর কাজও চলমান রয়েছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক যাতে তালিকা থেকে বাদ না যায়, সে বিষয়ে আমরা সরেজমিন থেকে কাজ করছি।
