যশোরে কোরবানির চাহিদার চেয়ে উদ্ধৃত্ত ১৫ হাজার পশু
প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
তরিকুল ইসলাম, যশোর
যশোর সদর উপজেলার কাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা লিমা খাতুন চারটি গরুর মালিক। বাড়ির উঠানে গোয়ালে রেখেই লালন পালন করেন। দুটি এঁড়ে বাছুর গরু হৃষ্টপুষ্ট করছেন। আসন্ন কোরবানি ঈদে গরু দুটি বিক্রি করতে চান। গরুকে ঘাস, বিচালির পাশাপাশি খৈল, ভুসি দানাদার খাবার দেন। এসব খাবার বাজার থেকে চড়া দামে কিনতে হয়। গবাদি পশুর খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় হৃষ্টপুষ্ট করতে খরচ বেড়েছে। খরচের তুলনায় কোরবানি ঈদে গরুর দাম মিলবে কি না, সেটি নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিনি।
একই গ্রামের আরেক কৃষক সোলাইমান হোসেন বলেন, আমার গোয়ালে ছয়টি গরু আছে। এরমধ্যে দুটো এঁড়ে গরুর হৃষ্টপুষ্ট করছি, কোরবানি ঈদে বিক্রি করবো। প্রতিবছর কোরবানি উপলক্ষে গরু মোটাতাজা করি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দাম না পেয়ে কসাইয়ের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হই। বিগত বছর ৫-৭টি গরু মোটাতাজা করলেও এবার মাত্র দুটি লালন পালন করছি। দাম না পাওয়ায় আমার মত অনেকেই কোরবানি উপলক্ষে গরু মোটাতাজাকরণ কমিয়েছে।
লিমা খাতুন কিংবা সোলাইমান হোসেন নয়, তাদের মত আরও অনেক প্রান্তিক খামারির কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। প্রতি বছর কোরবানি ঈদে গরুর ন্যায্য দাম না পেয়ে হতাশ হন খামারিরা। এবারও আশায় বুক বেধেছেন খামারিরা। কোরবানি উপলক্ষে গবাদি পশু লালন পালনে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
জেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, যশোর জেলায় ১৩ হাজার ৬৪০টি গবাদি পশুর খামার রয়েছে। এসব খামারে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৯৭টি কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে। এরমধ্যে ষাড় ২৮ হাজার ৮৪৪টি, বলদ ৯৫৭টি, গাভী ৬ হাজার ৪৫৮টি, ছাগল ৮১ হাজার ২৭৬টি, ভেড়া ৪৪২টি। জেলায় এবছর কোরবানির পশুর চাহিদা এক লাখ ৩ হাজার ১২৮টি। চাহিদার প্রায় ১৫ হাজার উদ্বৃত্ত গবাদি পশু লালন পালন করছেন খামারিরা।
সদর উপজেলার কাজীপুর গ্রামের কৃষক মোসলেম উদ্দিন বলেন, কোরবানি সামনে পশু খাদ্যের দাম বেড়ে যায়। এজন্য পশু মোটাজাতাকরণে খাবার খরচ বেড়ে যায়। একটা গরুর মোটাতাজাকরণে যা খরচ, সেই তুলনায় দাম মেলে না। কোরবানির আগে সিন্ডিকেট করে গরুর দাম কমিয়ে দেওয়া হয়। এতে আমাদের মত যারা বাড়িতে গরু লালন-পালন করি, তারা বিপাকে পড়ি। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে লোকসানে গরু বিক্রি করতে হয়। লোকসান হওয়ায় গ্রামের অনেকেই গরু মোটাতাজাকরণ করছে না। দিন দিন গরু মোটাতাজাকরণের সংখ্যা কমছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কোরবানি উপলক্ষে জেলায় ১ লাখ ১৭ হাজার গরু-ছাগল হৃষ্টপুষ্ট করছেন খামারিরা। প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে নিরাপদ পশু হৃদপুষ্টকরণে খামারিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে সচেতন করা হয়েছে। যশোরের নিরাপদ পশু কোরবানির উপযোগী। তাই যারা পশু কোরবানি দিতে চান, তারা যশোরের গবাদি পশুকে প্রাধান্য দিবেন।
তিনি বলেন, খামারিদের বাড়ি বাড়ি গিয়েছি। তখন তাদের অনেকই বলেছেন, পশু খাদ্যের দাম বেশি, তাদের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। আমরা সেই সব খামারিদের বলেছি, শুধু দানাদার খাবারের উপর নির্ভর করলে হবে না, কাঁচা ঘাস দিয়ে গরু পালন করতে হবে। কাঁচা ঘাস খাওয়ালে খাবার খরচ কম হয়।
আবার অনেক খামারি দাবি, সীমান্ত বন্ধ রাখার জন্য। যাতে ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করতে না পারে। আমরা তাদের অভয় দিয়েছি, ভারতীয় গরু দেশে আসবে না। সীমান্ত এবারও সীলড (বন্ধ) থাকবে। আমরা বাজারে খামারি ও ভোক্তার প্রত্যেকের লাভজনক পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই। কোনভাবেই অস্থিতিশীল পরিবেশ চাই না।
