দিনাজপুরে সবজির বাজারে অস্থিরতা

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সিদ্দিক হোসেন, দিনাজপুর

দিনাজপুরের বাজারগুলোতেও নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামে আবারও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশির ভাগ সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মুরগি ও মাছের দাম। ফলে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে বরবটি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দামে। কাঁচা মরিচের দাম আরও বেশি, প্রতি কেজি ৬০-৮০ টাকা। লাউ বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৬০-৮০ টাকায়। শসা ও ঢ্যাঁড়সের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, গাজর ৭০ থেকে ৭৫ টাকা এবং বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া করলা প্রতি কেজি প্রায় ৭০ টাকা এবং পটোল ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

শুধু সবজি নয়, মুরগির বাজারেও দাম বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা কেজি এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি দামে। বয়লার মুরগি ৩৬০ টাকা ৩৭০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও প্রকারভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনাজপুর বাহাদুর বাজারের ক্রেতা মো. ইসলাম বলেন, আগে যে টাকা দিয়ে এক সপ্তাহের সবজি কিনতাম, এখন সেই টাকা দুই-তিন দিনও চলে না। সব কিছুর দামই হঠাৎ করে বেড়ে গেছে।

বাহাদুর অন্য ক্রেতা শেফালি বেগম জানান, ‘কাঁচা মরিচ আর সবজির দাম এত বেশি যে, অনেক সময় ইচ্ছা থাকলেও কিনতে পারি না। সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে গেছে। বাহাদুর বাজারের সবজি বিক্রেতা আবদুল করিম বলেন, ‘আমরা ইচ্ছা করে দাম বাড়াই না। পাইকারি বাজারে দাম বেশি, তাই খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

বাহাদুর বাজারের বিক্রেতা হাসান আলী জানান, কয়েক দিনের অনাবৃষ্টি কারণে অনেক সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এ ছাড়া পরিবহন খরচও বেড়েছে, যার প্রভাব বাজারে পড়ছে। দিনাজপুর ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বোরহানউদ্দিন বলেন, বাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ভোক্তারা।