সংযোগ সড়ক না থাকায় অচল ৩৪ কোটি টাকার সেতু
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
দেওয়ান আবুল বাশার, মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতুর কাজ চার বছর আগে শেষ হলেও সংযোগ সড়ক (অ্যাপ্রোচ) নির্মাণ না হওয়ায় আজও চালু হয়নি যান চলাচল। ফলে উন্নয়নের এই বিশাল স্থাপনা দাঁড়িয়ে থাকলেও এর সুফল থেকে বঞ্চিত রয়েছেন অন্তত ৩০ গ্রামের মানুষ। প্রতিদিনই চরম দুর্ভোগ নিয়ে খেয়া নৌকায় নদী পারাপার করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
জানা গেছে, ঘিওর উপজেলার সিংজুরি ইউনিয়নের বৈকুণ্ঠপুর এলাকার আলহাজ্ব কাজি গোলাম হোসেন সড়কের কালিগঙ্গা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সেতু এখনও কোনো কাজে আসছে না বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সেতুর দুই পাশের অন্তত ৩০ গ্রামের বাসিন্দাদের।
স্থানীয়রা জানান, আলহাজ্ব কাজি গোলাম হোসেন রোড চালু হলে মানিকগঞ্জ জেলা থেকে যমুনা সেতু কানেক্টিং রোডের দূরত্ব হবে মাত্র ৯০ কিলোমিটার। এছাড়া ঘিওর উপজেলা থেকে মানিকগঞ্জ সদরের দূরত্ব কমে হবে প্রায় ১১ কিলোমিটার এবং মানিকগঞ্জ থেকে দৌলতপুর উপজেলার দূরত্ব নেমে আসবে প্রায় ১৬ কিলোমিটারে। এতে একদিকে যেমন সময় বাঁচবে, তেমনি সহজ হবে যোগাযোগ ব্যবস্থাও।
সেতুটি দ্রুত চালুর দাবিতে গত শুক্রবার বিকালে সেতুর পশ্চিম পাশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
সিংজুরি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাদের মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আক্তার হোসেন মণ্ডল, যুগ্ম সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম রফিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চার বছর আগে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও এখনও আমাদের খেয়া নৌকায় নদী পার হতে হচ্ছে। সন্ধ্যা হলেই খেয়া চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জরুরি প্রয়োজনে তখন মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় সাধারণ মানুষ এর কোনো সুফল পাচ্ছে না।
বক্তারা আরও বলেন, এই সেতু চালু হলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হয়ে যাবে। বিশেষ করে টাঙ্গাইল জেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে। অথচ শুধুমাত্র অ্যাপ্রোচে মাটি না থাকায় বছরের পর বছর ধরে সেতুটি অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
এ সময় বক্তারা দ্রুত সেতুর দুই পাশে মাটি ফেলে সংযোগ সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে যান চলাচল চালুর দাবি জানান। পাশাপাশি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম লুৎফর রহমান বলেন, সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরুর লক্ষ্যে প্রায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের জন্য ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এরইমধ্যে ঠিকাদার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। বালু ফেলে ভরাট শেষে কার্পেটিং করে যান চলাচলের উপযোগী করা হবে। উপজেলা প্রকৌশলীকে এরইমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি আগামী রবি অথবা সোমবারের মধ্যে কাজ শুরু হবে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এসএ জিন্নাহ কবির বলেন, সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা যায়।
