সেই কালো মানিকের দাম ২২ লাখ টাকা

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  জিয়াউর রহমান, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়ার পর ফেরত দেওয়া ষাঁড় কালো মানিককে এবারও কোরবানির বাজারে উঠানো হচ্ছে। এবার দাম হাঁকানো হচ্ছে ২২ লাখ টাকা। জানা গেছে, সোহাগ মৃধা পেশায় একজন কৃষক। তিনি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির একজন সাধারণ কর্মী। গত বছরের ৫ জুন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে উপহার দিয়ে ফেরত পাওয়া সেই কালোমানিককে বাজারে ওঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। দাম হাঁকানো হয়েছে ২২ লাখ টাকা। তবে খালেদা জিয়া মৃত্যুতে তার মন ভারাক্রান্ত। গরুটির বিক্রিত অংশের কিছু টাকা দিয়ে বেগম জিয়ার নামে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি।

প্রায় ৭ বছর আগে স্থানীয় চৈতা বাজার থেকে একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভি কেনেন সোহাগ। সেই গাভির বাচ্চা হিসেবে জন্ম নেয় কালোমানিক।

আদর-যত্নে বড় হওয়া এই ষাঁড়ের ওজন এখন প্রায় ৪৫ মণ (প্রায় ১ হাজার ৮০০ কেজি), লম্বায় ১১ ফুট, উচ্চতা ৬ ফুট। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা কালো রঙের ষাঁড়টিকে লালন-পালন করেছেন। এটির নাম রেখেছেন কালো মানিক। তবে এত বেশি দামের ষাঁড়টি বিক্রি নিয়ে তিনি চিন্তিত।

সোহাগ মৃধা বলেন, আমার বাবা বেলায়েত হোসেন মৃধা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমি নিজেও দলের একজন সাধারণ কর্মী। ২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশে যোগ দিয়ে মনে আশা জাগে— দল যদি ঘুরে দাঁড়ায়, প্রিয় নেত্রীকে আমার প্রিয় কালোমানিক উপহার দেব। বিএনপির রাজনীতিতে নিজের ভালোবাসা প্রকাশের জন্য গত বছরের ৫ জুন তিনি এই কালোমানিকটি বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য উপহার হিসাবে গুলশানে ফিরোজার বাসায় নিয়ে যান। বেগম খালেদা জিয়া কালো মানিক গ্রহণ করেন এবং তার (সোহাগের) ছেলে জিসান মৃধাকে ফেরত দেন। সে সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানের সঙ্গে ভিডিও কলে তিনি কথা বলেন। পরিবারের সবাইকে ঈদ উপহারও দেন।

তিনি আরও বলেন, গত বছর ষাঁড়টি তিনি বিক্রি করতে পারেননি। এবছর ওজন প্রায় ১০ মণ বেড়ে গেছে। গত বছরের চেয়ে মূল্যও বেশি হবে। ষাঁড়টি বিক্রি করতে পারলে অর্থের একটি অংশ দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের আত্মার মাগফিরাতের জন্য দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করবেন তিনি।

শনিবার সোহাগের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ষাঁড়টির সেবা করছেন তিনি। ছেলে জিসান ষাঁড়টির পিঠে উঠে খেলছে। ষাঁড়টি এক নজর দেখতে ভিড় করছেন আশপাশের গ্রামের মানুষ। সোহাগের স্ত্রী সুলতানা আক্তার পলি বলেন, ষাঁড়টি আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো। ওকে খুব যত্নে বড় করেছি। ষাঁড়টির জন্য দৈনিক ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার খাবার প্রয়োজন। যা খুবই ব্যয়বহুল। আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সোহাগ আমাদের দলের একনিষ্ঠ কর্মী।