রংপুরে গরুর জন্য ‘আবাসিক হোটেল’
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো
রংপুরের প্রবেশদ্বার মর্ডান মোড়ে ধর্মদাস এলাকায় ব্যক্তি উদ্যেগে গড়ে তোলা হয়েছে গরু রাখার জন্য ‘আবাসিক হোটেল’। সেখানে ৪০০ থেকে ৫০০টি পর্যন্ত গরু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন মাত্র ৫০ টাকা ভাড়ায় এখানে একটি গরু রাখা যায়। রংপুর ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা গরুর পাইকারি ব্যাবসায়ী আর খামারিরা এখানে গরু রাখছেন। এরইমধ্যে গরুর ‘আবাসিক হোটেল’ সারাদেশে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।
রেজমিনে বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলের দেশি গরুর মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, টেকনাফ, কুমিল্লা, নোয়াখালি, বরিশাল অঞ্চল থেকে জেলার পাইকাররা গরু কিনতে রংপুরে আসে। বিশেষ করে কোরবানির ঈদে অনেক পাইকার আসে রংপুর এলাকায়। এর আগে পাইকারদের গরু কিনে রাখার জায়গা ছিল না। নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ে থাকতো তারা। এছাড়া রংপুরের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে অনেক গৃহস্থ নগরীর বিভিন্ন হাটে গরু বিক্রি করতে এসে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে ফিরিয়ে নিয়ে যেত। এ অবস্থায় আলমগীর হোসেন নামের এক ব্যক্তি নিজ উদ্যেগে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে গড়ে তুলেছেন গরু রাখার আবাসিক হোটেল। অল্প দিনের মধ্যে এ হোটেলের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। আলমগীর জানালেন, একটি গরু একদিন রাখার জন্য ৫০ টাকা ভাড়া নেন তারা। গরুর খাবারের ব্যবস্থা পাইকার বা মালিকদের নিজ উদ্যেগে করতে হয়। এ জন্য ধানের খড় এখানে পাওয়া যায়। হয় তারা নিজেরাই খাওয়াতে পারে অথবা হোটেলের কর্মচারীদের সহায়তা নিতে পারে।
চট্টগ্রাম থেকে দেশি জাতের গরু কিনতে আসা মমিন সরকার জানালেন, তারা গরু কিনতে এসে নানান সমস্যায় পড়তেন। এক ট্রাকে ৩০-৪০টি গরু পরিবহন করা যায়। কিনতে কমপক্ষে এক সপ্তাহ সময় লাগে। এখন বিভিন্ন হাটে গিয়ে কয়েকটি করে গরু কিনে আবাসিক হোটেলে রাখছেন। যেহেতু রংপুর অঞ্চলের দেশি জাতের গরুর চাহিদা দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বেশি, এজন্য আরও কয়েকটি গরুর ‘আবাসিক হোটেল’ হলে ভালো হয়।
একমত হয়ে শরীয়তপুর থেকে গরু কিনতে আসা ব্যাপারী আব্দুল মতিন জানালেন, তাদের এলাকায় রংপুর অঞ্চলের দেশি গরুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কেননা ফ্রিজিয়ান জাতের গরুর মাংসের চাইতে দেশি গরুর মাংসের স্বাদ অনেক বেশি। এর আগে তার কেনা কয়েকটি গরু ছিনতাই হয়েছে। এখন গরুর আবাসিক হোটেল হওয়ায় সব দুশ্চিন্তা মিটে গেছে।
চট্টগ্রাম থেকে আসা গরুর ব্যাপারী রহমান মিয়া, কক্সবাজার থেকে আসা আব্দুস সাত্তার ও টেকনাফ থেকে আসা গরুর পাইকার আলতাফ হোসেন জানালেন একই কথা। এদিকে পীরগাছা থেকে দুটি গরু বিক্রি করতে এসে বিপাকে পড়েন পাইকার আফজাল হোসেন।
