ঈদুল আজহায় গবাদি পশুতেই আসবে ১০ হাজার কোটি টাকা

রংপুরের অর্থনীতিতে নতুন গতি

প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  আব্দুর রহমান মিন্টু, রংপুর

ঈদুল আজহা সামনে রেখে রংপুর বিভাগের হাট-বাজারগুলোতে জমে উঠছে কোরবানির পশুর বেচাকেনা। প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বিভাগে সাড়ে ১৫ লাখ পশু কোরবানি হতে পারে। আর এ কেন্দ্র করে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

শুধু পশু নয় এ সময় মসলা, লবণ ও পশুর চামড়া ও নতুন কাপড়ও অর্থনীতির খাতায় যোগ হয়। এতে এই অঞ্চলের অর্থনীতির চালিকাশক্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। রংপুর নগরীর লালবাগ, বুড়িরহাটসহ কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকারের গরু ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকা, মাঝারি আকারের গরু ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং বড় আকারের গরু আড়াই লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বড় আকারের গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদাই বেশি। প্রতিটি গরুর গড় মূল্য দেড় লাখ টাকা হিসেবে ধরা হলে ৫ লাখ গরুর বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা।

অন্যদিকে, প্রতিটি খাসি ও ছাগল বিক্রি হচ্ছে ১২ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকায়। গড়ে প্রতিটি ছাগলের দাম ১৫ হাজার টাকা হিসেবে ধরা হলে ১০ লাখ খাসি-ছাগলের বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।

তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি কোরবানির পশুর জন্য গড়ে ৫০০ টাকার মশলা প্রয়োজন হয়। সে হিসাবে মশলা কেনাবেচায় যুক্ত হতে পারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। এছাড়া একটি গরুর চামড়া সংরক্ষণে প্রায় আট কেজি এবং একটি ছাগলের চামড়া সংরক্ষণে প্রায় তিন কেজি লবণ লাগে। গড়ে ছয় কেজি হিসেবে হিসাব করলে চামড়া সংরক্ষণে ১০ লাখ কেজির বেশি লবণের প্রয়োজন হবে। প্রতিকেজি লবণের দাম ৩৫ টাকা ধরে এ খাতে কয়েক কোটি টাকার ব্যাবসা হবে।

চামড়ার বাজারেও বড় অঙ্কের লেনদেনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি গরুর চামড়া গড়ে এক হাজার টাকা করে বিক্রি হলে পাঁচ লাখ গরুর চামড়া থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আসবে। আর ছাগলের চামড়া প্রতিটি দেড়শ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হলে সেখান থেকে ১৫ কোটির বেশি টাকা আসতে পারে।

প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ঈদুল আজহায় রংপুর বিভাগের আট জেলায় প্রায় ১৫ লাখ পশু কোরবানি হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে সাড়ে ১৫ লাখে পৌঁছাতে পারে। মোট পশুর এক-তৃতীয়াংশ গরু এবং বাকি দুই-তৃতীয়াংশ খাসি-ছাগল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। সেই হিসাবে এবার বিভাগে ৫ লাখ গরু এবং ১০ লাখ খাসি-ছাগল কোরবানি হতে পারে।

গত বুধবার রংপুর নগরীর লালবাগ হাটে আমিনুল ইসলাম একটি গরু বিক্রি করেছেন ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায়। তিনি বলেন, ‘সারা বছর গরু লালন-পালন করেছি, কোরবানির ঈদে বিক্রি করার জন্য। গরু বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারের বাড়তি খরচ মেটাব।

প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ১ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৪ জন ছোট-বড় খামারি এরইমধ্যে ২০ লাখের বেশি গরু, মহিষ, ছাগল, উট, দুম্বা ও ভেড়াসহ কোরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন। যা বিভাগের মোট চাহিদার তুলনায় প্রায় সাড়ে ৫ লাখ বেশি।

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল হাই সরকার বলেন, আমাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ বছর কোরবানির ঈদে রংপুর বিভাগের অর্থনীতিতে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি যোগ হতে পারে। এর মধ্যে শুধু গবাদিপশু খাতেই প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হবে।