‘কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কেনো অরাজকতা চলবে না’
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো

কোরবানির পশুর চামড়ার অব্যবস্থাপনার কারণে যাতে নগরীর পরিবেশ নষ্ট না হয় এবং কোরবানিদাতারা ভোগান্তির শিকার না হন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। মেয়র বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে কোনো ধরনের অরাজকতা চলবে না। কোরবানির সময় চামড়া ব্যবস্থাপনায় সামান্য অব্যবস্থাপনাও নগরবাসীর জন্য বড় ধরনের দুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নগরকে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে চসিক, জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
গতকাল রোববার চসিক নগরভবনে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও পরিবেশসম্মত ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আতড়দার ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নগরের বাইরের চামড়া এনে কৃত্রিমভাবে দাম কমানোর চেষ্টা করে। আবার কিছু খণ্ডকালীন বা মৌসুমি ব্যবসায়ী একদিনের জন্য ব্যবসায় নেমে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে চামড়া রাস্তায় ফেলে চলে যায়। এতে পরিবেশ দূষিত হয়, দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় রাস্তায় পড়ে থাকা চামড়ার কারণে দুর্ঘটনাও ঘটে।
ডা. শাহাদাত বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে যেকোনোভাবে শহরটাকে ক্লিন রাখা। কোরবানির পশু জবাইয়ের পর দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও চামড়া সংরক্ষণ না করা গেলে পরিবেশ দূষণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মেয়র বলেন, গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, খণ্ডকালীন ব্যবসায়ীরা যাতে চামড়া রাস্তায় ফেলে না দেয়, সেজন্য আপনারা সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত দামে চামড়া কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নিন। এতে পরিবেশও রক্ষা পাবে, নগরও পরিচ্ছন্ন থাকবে। আমরা চাই ঈদুল আজহার সময় নগরে কোনো ধরনের অরাজকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হোক। চামড়া ব্যবস্থাপনায় সবাই দায়িত্বশীল হলে কোরবানিদাতারাও ন্যায্য মূল্য পাবেন, পরিবেশও সুরক্ষিত থাকবে।
সভায় চামড়া ব্যবসায়ীরা লবণের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা, ট্রেনারি মালিকের কাছে চট্টগ্রামের আড়তদারদের পাওনা কোটি কোটি টাকা পরিশোধ করার এবং কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যাতে সক্ষমতার বাহিরে চামড়া সংগ্রহ না করে সে ব্যাপারে সহযোগিতা চান।
সভায় কুরবানি পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত লবণ মজুত করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে আড়তদার সমিতিকে অনুরোধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়। লবণের মূল্য সহনীয় রাখা ও উপজেলা পর্যায়ে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণের লক্ষ্যে পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহ নিশ্চিতে বিসিককে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পশুর হাটগুলোয় ভেটেরিনারি ডাক্তারের উপস্থিতি নিশ্চিত করা ও পশুর চামড়া ছিলানো এবং সংরক্ষণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে প্রচারকার্য চালানোর জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগকে অনুরোধ করা হয়।
সভায় আড়তদার ব্যতীত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে সক্ষমতার অধিক চামড়া সংগ্রহ না করার জন্য যোগাযোগক্রমে পরামর্শ প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। সন্নিহিত জেলা ও উপজেলা থেকে ঈদের দিন ও পরবর্তী ২ দিন যাতে মহানগরীতে কুরবানি পশুর চামড়া প্রবেশ করতে না পারে সে ব্যাপারে চেকপোস্ট বসানোর জন্য জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে যথাক্রমে বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম ও ডিআইজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জকে অনুরোধ করা হয়।
বিগত বছরের ন্যায় এ বছরও প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে চামড়া ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও বাহিরের অতিরিক্ত চামড়া নগরীতে প্রবেশ রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রামকে অনুরোধ করা হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যাতে পর্যাপ্ত লবণ মজুত রাখা হয় এবং খুচরা চামড়া ব্যবসায়ীদের লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ কর্তৃক প্রশিক্ষণ দিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রামকে তার আওতাধীন জেলা ও উপজেলাগুলোতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রেরণের অনুরোধ করা হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাচা চামড়া আতড়দার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আলহাজ মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন, সহ-সভাপতি সম্রাট মোহাম্মদ শাহজাহান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুছ, উপদেষ্টা মোরশেদুল আলমসহ চামড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।
