খাল পুনর্খননে নতুন স্বপ্ন দেখছেন হাজারও কৃষক

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নে সাড়ে ৪ কিলোমিটার প্রবহমান খাল পুনঃখননের ফলে জলাবদ্ধতা ও সেচসংকট দূর হয়েছে। এতে করে ওই ইউনিয়নের ৭টি গ্রামের কয়েক হাজার প্রান্তিক কৃষক নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। যার কারণে এখন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্বি পাবে। তারা ফসল উৎপাদনে নতুন করে উপকৃত হওয়ায় আশার আলো দেখছে।

জানা গেছে, উপজেলার ৫নং পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের সহদেবপুর, নাংলা থেকে দোজনা ও ফতেপুর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার প্রবাহমান খালটি প্রায় মৃত। ফসলি মাঠের খড়কুটো ও আশপাশের লোকজনের ময়লা-আবর্জনা পেলিয়ে খালটি প্রায় ভরাট করে ফেলে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে সেচের অভাবে কৃষকদের বছরে মাত্র একটি ফসল উৎপাদন করেই সন্তুষ্ট থাকতে হতো। আবার বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চাষের জমি ডুবে যেত, নষ্ট হতো খেতের ফসল। বর্তমানে কচুয়া উপজেলা এলজিইডি অফিস থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের খালটি খননের উদ্যোগ নেওয়ায় খালের আশপাশে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। এতে কৃষকরা বছরের ২ থেকে ৩টি ফসল করে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে।

স্থানীয় কৃষক মোস্তফা জানান, পানির অভাবে ফসল উৎপাদন বিমুখ ছিলাম আমরা। খাল শুকনো থাকার জন্য দূর থেকে সেচ পাম্পের সাহায্যে পানি এনে চাষের জমি ভিজিয়ে বছরে এক ফসল চাষাবাদ করতাম। তাতে অনেক খরচ হতো। আবার সময়মতো পানিও পাওয়া যেতনা। এখন এই মরা খালটি খননের ফলে পানিপ্রবাহ বৃদ্ধি পাবে, পানির সমস্যা কেটে যাবে। এখন খালের পানি জমিতে ব্যবহার করে রবিশস্যসহ ইরি-বোরো ফসল চাষাবাদ করতে পারব। আশা করি, এবার আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে।

তিনি আরও জানান, এইখানের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে দোজানা ও ফতেপুর সংলগ্ন একটি ব্রিজ অনেক জরুরি। আমাদের ৫ গ্রামের মানুষ বর্ষা ও শুকনো মৌসুমে সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়। বিশেষ করে আমাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসা যাওয়া করতে পারে না। এখানে ব্রিজটি হলে মানুষ চলাচল করতে সুবিধা হবে এবং রাস্তা ও খননের খালটি ফুটে উঠবে।

স্থানীয় কৃষক লোকমান হোসেন, আলাউদ্দিন, মোহাম্মদ শিপনসহ আরও কয়েকজন বলেন, এক সময় এই এলাকার ৭টি গ্রামের মানুষ কৃষিসহ সব ধরনের কাজেই খালের পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন খনন না করায় খালগুলো ভরাট হয়ে যায়। এতে গ্রীষ্মকালে জমিতে যেমন পানির অভাব হতো, ঠিক বিপরীতে বর্ষাকালে প্লাবিত হয়ে জলবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। এখন খাল খননের ফলে প্রাণ ফিরেছে এলেকার কৃষি খাতে। তারা আরও জানান, বর্তমানে সারাদেশে যে খাল খননের প্রকল্প হাতে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। খাল খননে বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাধার সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আমরা গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, এই এলাকার সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ড. আনম এহছানুল হক মিলন মহোদয়কে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। এলজিআরডির কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল আলীম লিটন বলেন, খাল খনন করায় জমিতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছের চাহিদা পূরণ হবে। কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান রাসেল বলেন, এসব খাল খননের ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে ফসল উৎপাদনে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এতে উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে।