নওগাঁয় কোরবানি হাটে পশুর সরবরাহ বাড়লেও বেচাকেনা কম

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নওগাঁ প্রতিনিধি

কোরবানির ঈদের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে নওগাঁর হাটগুলোতে পশুর সরবরাহ বাড়ছে। তবে সরবরাহ বাড়লেও ক্রেতাদের আনাগোনা কম থাকায় বেচাকেনা কিছুটা কম। ক্রেতারা বলছেন বিগত বছরের তুলনায় বেড়েছে দাম। তারপরও কোরবানির জন্য দরদাম করে কিনছেন ক্রেতারা। এছাড়া দানাদার খাবারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে পশুর দাম। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্যমতে- জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩৯ হাজার খামার রয়েছে। যেখানে প্রায় ৮ লাখ গবাদিপশু লালন-পালন করা হয়েছে। এরমধ্যে জেলার চাহিদা রয়েছে অন্তত ৩ লাখ ৮৭ হাজার। উদ্বৃদ্ধ গবাদিপশু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হবে। জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে অন্তত ৪০টি পশুর হাট রয়েছে।

গত শনিবার জেলার মহাদেবপুর উপজেলার মহাদেবপুর সদর হাট, রোববার চকগৌরি হাট ও গতকাল সোমবার জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার ছাতড়া হাট ঘুরে দেখা যায়- হাটগুলোতে পশুর সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। তবে বড় গরুর তুলনায় মাঝারি আকারের গরুর সরবরাহ বেশি এবং ক্রেতাদের কাছে চাহিদা বেশি। এছাড়া দানাদার পশু খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় পশুর দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। হাটগুলোতে ছোট এবং মাঝারি আকারে গরুর চাহিদা বেশি ছিল। বড় গরু (ষাঁড়) ১ লাখ ৩০ হাজার ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও মাঝারি গরু ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আর বকনা গরু ৫০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা। তবে দাম কম হওয়ায় বকনা গরুর চাহিদা বেশ। কৃষিপ্রধান জেলা হওয়ায় ইরি-বোরো ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মানুষ। কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকায় হাটে ক্রেতাদের আনাগোনা কম। তারপরও কুরবানির জন্য দরদাম করে কিনছেন ক্রেতারা।

খামারিরা জানান, প্রাকৃতিক উপায়ে আটা, ভুষি, খৈল, খড় ও ঘাস দিয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। তবে প্রাকৃতিকভাবে পশু মোটাতাজাকরণের সব পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে খরচ। দানাদার খাবার প্রতি বস্তায় প্রকারভেদে ৩০০-৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। হাটে নিয়ে আসার পরও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছে না বলে জানান তারা। নওগাঁ শহরের মাষ্টাপাড়া থেকে চকগৌরি হাটে গরু কিনতে এসেছেন মনোয়ার হোসেন।