পত্নীতলয়ে কালবৈশাখীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি
পত্নীতলায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরবাড়ি ও দোকানপাটসহ বৈদ্যুতিক লাইন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। বিভিন্ন সড়কে গাছ উপড়ে পড়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে মাঠের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
গত শনিবার ভোর রাত থেকে দফায় দফায় ঝড় ও বজ্রপাতের ঘটনায় পুরো উপজেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র ঝড়ে এলাকার বাড়িঘর, দোকানপাট ও সড়কের ওপর গাছ পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে মানুষের জীবনযাত্রা থমকে পড়েছে। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন শিহাড়া, কৃষ্ণপুর, পত্নীতলা, নজিপুর, পাটিচরাসহ উপজেলা সদর নজিপুর পৌরসভার চাঁদপুর, হরিরামপুর, মাহমুদপুর, পুইয়া, পলিপাড়া, চকজয়রাম, ঠুকনিপাড়া, নতুনহাট ও পালসা গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার সর্দারপাড়া মোড়ে বড় বড় কড়ইগাছ, পাইকড় গাছ, আম গাছ উপড়ে পড়ে সমস্থ দিন যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসকর্মী, বিদুৎকর্মী ও স্থানীয়রা অক্লান্ত পরিশ্রম করে গাছের ডাল সরিয়ে যান চলাচল ও বিদুৎব্যাবস্থা স্বাভাবিক করেন। এছাড়া পত্নীতলা থানা চত্বর ও রাস্তা, নজিপুর- বাসস্ট্যান্ড সড়ক, উপজেলা চত্বর ও রাস্তা, নজিপুর সরকারি কলেজ চত্বর, হরিরামপুর, নজিপুর বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন সড়কে গাছ ভেঙে পড়ায় রাত থেকেই যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
কালবৈশাখীর কারণে যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধসহ বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবাও ব্যাহত হয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভাগ ও ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয়দের অক্লান্ত পরিশ্রমে গত রোববার দিবাগত রাতে যোগাযোগব্যবস্থাসহ বৈদ্যুতিকসংযোগ স্বাভাবিক কিছুটা স্বাভাবিক হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তারা। এলাকার ভুক্তভুগীরা জানান, বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে এলাকার পাকা ইরি ধান ও আমের বাপক ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ঘর-বাড়ি, দোকান-পাটের টিনের ছাউনি সব উড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। অনেকেই এসব ছাউনিবিহীন ঘরেই মানবেতর জীবনযাপন করছে।
পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা তাৎক্ষণিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সহযোগিতায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান, অফিস সহকারী মারুফ হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে খাদ্যসামগ্রীসহ কিছু ঢেউটিন ভুক্তভোগীদের মধ্যে সরকারিভাবে প্রদান করেছেন। এ সময় তিনি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান ও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি উক্ত ঝড়ে পৌরসভাসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের প্রায় ৫০০ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
