মাদক ও নৌ চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে একজন খুন
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে মাদক ব্যবসা ও নৌ পথের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজরা মাকসুদুর রহমান জুয়েল (৪৪) নামের একজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে পুলিশ আকাশ (৩৫) ও আশিক (৩৪) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার মদনগঞ্জ শান্তিনগর এলাকার শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে এই হত্যার ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানায়, বন্দর থানার শান্তিনগর এলাকার তাজুল ইসলাম ও জোৎস্না বেগম দম্পত্তির ছেলে জুয়েল। সে স্ত্রী ঝুমুর ও দুই মেয়ে নাজলা, তাবাসসুমকে নিয়ে এই এলাকায় বসবাস করে। জুয়েল স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী এবং শীতলক্ষ্যা নদীতে চলমান বালুবাহি বাল্কহেড ও পন্যবাহী নৌযানে চাঁদাবাজি চক্রের সদস্য বলে জানা যায়। তার সঙ্গে স্থানীয় পুলিশের সখ্যতা রয়েছে বলেও অভিযোগ আছে। গত সোমবার রাতে শান্তিনগর এলাকায় পুলিশের অভিযানের সময় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে জুয়েলের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে তারা মঙ্গলবার দুপরের দিকে জুয়েলের অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালায় তারা। একপর্যায়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জুয়েলের বোন ঝুমা আক্তার জানায়, আমার ভাই নদীতে বাল্কহেডের টাকা আদায় করে। তাকে নদীর তীরে দুপুরে মদনগঞ্জ ছৈয়ালবাড়ী ঘাট এলাকার সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে আহত করে। প্রত্যক্ষদর্শী একজন রক্তাক্ত ভাইকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য রিকশায় উঠায়। আমি খবর পেয়ে সেখানে যাই এবং সেই রিকশায় করে তাকে সদরের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই।
হাসপতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। বড় ভাই সোহেল জানান, আমার ছোট ভাই জুয়েল মাদক ব্যবসায়ী গেসু, ডিস দুলাল, টিটু ও মদনগঞ্জ সৈয়াল বাড়ি ঘাট সিমান্ত, ফাহিম আকাশ ও আশিক গংদের মাদক ব্যবসা করতে বাধা প্রদান করে। এ নিয়ে আমার ছোট ভাই জুয়েলের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধের জের ধরে আমার ছোট ভাইকে দিন দুপুরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিত ভাবে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। আমি আমার ছোট ভাই জুয়েল হত্যার বিচার দাবি জানাচ্ছি প্রশাসনের কাছে। হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক নাজমুল আলম জানান, জুয়েলের মাথার পেছন দিকে কোপানোর কারণে রক্তক্ষরণে পথেই মারা যায়। বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফউদ্দিন বলেন, হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শান্তিনগর এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে আকাশ, রফিকের ছেলে আশিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা পক্রিয়াধীন রয়েছে।
