সামুদ্রিক কচ্ছপের ১৬৩টি বাচ্চা তিন নদীর মোহনায় অবমুক্ত
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে বিরল এক প্রাকৃতিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয়রা। সৈকতের বালুর নিচ থেকে একসঙ্গে ১৬৩টি সামুদ্রিক কচ্ছপের বাচ্চা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের যৌথ উদ্যোগে বাচ্চাগুলোকে নিরাপদে আন্ধারমানিক নদী সংলগ্ন তিন নদীর মোহনায় অবমুক্ত করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার কুয়াকাটার লেম্বুরবন এলাকার সৈকতসংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত দোকানের নিচে থাকা বালুর গর্ত থেকে এসব কচ্ছপের বাচ্চা উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সকালে নিজের ফিশ ফ্রাইয়ের দোকান খুলতে যান লেম্বুরবন এলাকার ব্যবসায়ী মো. বায়েজিদ। এসময় দোকানের নিচের বালুর মধ্যে ছোট ছোট কচ্ছপের বাচ্চা নড়াচড়া করতে দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে আরও খোঁজ নিয়ে তিনি গর্তের ভেতরে অসংখ্য কচ্ছপের বাচ্চা দেখতে পান।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা)-কে জানানো হলে সংগঠনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাচ্চাগুলো উদ্ধার করেন। পরে বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কচ্ছপের বাচ্চাগুলো নিরাপদে সমুদ্রমুখী পানিতে অবমুক্ত করা হয়। এসময় বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাওছার হামিদ, উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু, কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষারসহ পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা)-এর আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু বলেন, উদ্ধার হওয়া বাচ্চাগুলো অলিভ রিডলি প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপের। উদ্ধারস্থলে ডিমের খোসা ও ছোবড়াও পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কিছুদিন আগে মা কচ্ছপ এখানে ডিম পেড়ে গিয়েছিল। প্রাকৃতিকভাবে ডিম ফুটে বাচ্চাগুলো বের হলেও পরিত্যক্ত দোকানের নিচে আটকে থাকায় তারা সাগরে যেতে পারছিল না। কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, কুয়াকাটা উপকূল সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অলিভ রিডলি কচ্ছপ সাধারণত নিরিবিলি সৈকতে ডিম পাড়ে। এসব প্রাণী রক্ষায় স্থানীয়দের আরও সচেতন হতে হবে। কচ্ছপের ডিম বা বাচ্চা দেখতে পেলে দ্রুত বন বিভাগকে জানানো উচিত।
মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, উদ্ধার হওয়া কচ্ছপের বাচ্চাগুলো নিরাপদে অবমুক্ত করা হয়েছে। সামুদ্রিক কচ্ছপ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদের প্রজনন ও বিচরণ নিশ্চিত করতে বন বিভাগ নিয়মিত নজরদারি করছে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাওছার হামিদ বলেন, এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি ঘটনা। পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সচেতন মানুষের ভূমিকা প্রশংসনীয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
