গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে লাভবান কৃষক

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  এস.এম. তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে এবার গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন সবজি চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ অঞ্চলের হাট-বাজারে সবজির দাম এখন ভালো থাকায় কৃষকরা খুশি। খরচ কম লাভ বেশি হওয়ায় সবজি চাষে ঝুঁকছে কৃষকরা। এরমধ্যেই এ চাষাবাদে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে কৃষকের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষে ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ চাষে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি চাষাবাদ করেছে কৃষকেরা। সবচেয়ে বেশি এ চাষাবাদ হয়েছে উল্লাপাড়া, কাজিপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। তবে যমুনা নদীর তীরবর্তী উপজেলার চরাঞ্চলেও লাভজনক এ চাষাবাদ করা হয়েছে। এসব সবজির মধ্যে রয়েছে- বেগুন, লাউ, কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, পালংশাক, সবুজশাক, ফুলকপি, পটোল, ঢ্যাঁড়শ, বাঁধাকপি, ডাটা, করলা, ঝিংগা ও সিম।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারো প্রায় ২ মাস আগে এসব সবজি চাষাবাদ করেছে কৃষকরা। এরমধ্যেই এসব সবজি হাট-বাজারে দাম থাকায় কৃষকরা খুশি। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, খরচ কম, লাভ বেশি— এ সবজি চাষাবাদে কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবারো এসব সবজি বেশি চাষাবাদ করা হয়েছে। তবে চরাঞ্চলের বিভিন্ন সবজি কিছুটা আগেই হাট-বাজারে উঠেছে। এর মধ্যে লাউ, মুলা ও কপির কদর বেশি রয়েছে। তবে অনেক সবজি বারো মাসই চাষাবাদ হয়ে থাকে।

এদিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী গ্রামের প্রান্তিক চাষি হাসান প্রায় ১ বিঘা জমি বরগা নিয়ে সবজি বাগান চাষাবাদ করেছেন। এ বাগানে কুমড়া, পল্লা, ঢ্যাঁড়শ, পটোলসহ অন্যান্য সবজি চাষাবাদ করেছে। এ সবজি চাষাবাদে ব্যয় খরচ বাদে লাভের আশা রয়েছে বেশি। এরমধ্যেই প্রায় লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেছে এবং আরও ১ মাসেরও বেশি এ সবজি বিক্রি করা যাবে। বহুলী, রাজাপুর, রঘুরগাতী, হরিণাহাটা, মাছুয়াকান্দি, মুনসুমি, খাগাসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের বহু ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এসব চাষাবাদে ঝুঁকে পড়েছে। এসব চাষাবাদে অনেক কৃষকের সচ্ছলতা ফিরে এসেছে।

এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক এ. কে. এম. মঞ্জুরে মাওলা বলেন, গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন সবজি চাষাবাদে কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ। বিশেষ করে কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে থেকেও পরামর্শ দিয়েছেন। এবার এ চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। সবজির বাজার ভালো থাকায় কৃষকরা এখন খুশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।