মাত্রাতিরিক্ত সার ব্যবহারে কমছে জমির উর্বরতা
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
সার বেশি ব্যবহার করলেই ফসলের উৎপাদন বেশি হয়- এমন ভ্রান্ত ধারণা থেকে অনেক কৃষক শাকসবজি উৎপাদনে মাত্রারিক্ত সার ব্যবহার করছেন। এতে উৎপাদিত খাদ্য খেয়ে মানুষ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি অতিরিক্ত রাসায়নিকের প্রভাবে অনেকের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকও কার্যকর হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘পার্টনার কংগ্রেস-২৬’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ কর্মশালার আয়োজন করে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ এ. কে. এম সাদিকুল ইসলাম। বক্তব্য দেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) কামরুল হাসান, আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমলসহ অন্যরা।
কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক-কৃষানি, কৃষি উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। বক্তারা আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তির ব্যবহার, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং নতুন কৃষি উদ্যোক্তা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের বিকল্প নেই। নতুন প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে সরকারের পাশাপাশি কৃষকদেরও সচেতন ও উদ্যোগী হতে হবে। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে কৃষিপ্রযুক্তিবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য ও পরামর্শ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ এ. কে. এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। সরকার কৃষি খাতে ব্যাপক ভর্তুকি দিচ্ছে। বিদেশ থেকে সার আমদানি করে কৃষকদের প্রতি কেজিতে ৭০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। অথচ অনেক কৃষক সারের পরিমিত ব্যবহার করছেন না। বেশি সার ব্যবহার করলেই উৎপাদন বেশি হবে—এমন ভুল ধারণা থেকে তারা শাক-সবজিতে অতিরিক্ত সার প্রয়োগ করছেন। এতে জমির উর্বরতা ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মাত্রারিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে উৎপাদিত খাদ্য খেয়ে মানুষ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিকও ঠিকমতো কাজ করছে না। তাই নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কৃষকদের সচেতন হতে হবে এবং পরিমিত সার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
