জুনের প্রথম সপ্তাহে বাজারে আসবে দিনাজপুরের রসাল লিচু

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  চিরিরবন্দও (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

দিনাজপুর চাল ও লিচুর জন্য বিখ্যাত। তবে লিচুর রাজ্য হিসেবে দিনাজপুরের আলাদা সুনাম রয়েছে, সারাদেশে স্বাদে ও রসে এগিয়ে দিনাজপুরের লিচু। টুকটুকে লাল রঙ আর রসালোর স্বাদের জন্য দিনাজপুরের লিচুর কদর সর্বত্র। এর মধ্যে দিনাজুপুরের বেদানা লিচুর চাহিদা সব থেকে বশি। মৌসুম এলেই এই লিচুর জন্য অপেক্ষায় থাকেন সবাই।

জানা গেছে, জুনের প্রথম সপ্তাহে বাজারে আসবে দিনাজপুরের লিচু। গাছে গাছে সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে লালচে গোলাপি ও সুবজ রঙের লিচু। জেলার ১৩টি উপজেলাতেই কম বেশি লিচুর আবাদ হয়। তবে সবচেয়ে বেশি লিচুর চাষ হয় সদর, বিরল ও চিরিরবন্দর উপজেলায়। লিচুর বাগানে ব্যস্ত সময় পার করছে লিচু চাষি ও বাগানিরা তাঁরা কৃষি অফিসের পরামর্শে বাগানের গাছের গোড়ায় পানি ও লিচুর গায়ে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে ছিটানো হচ্ছে কীটনাশক। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় বিভিন্ন জাতের লিচুর চাষ হয় মাদ্রাজি, বেদানা, হাড়িয়া বেদানা, বোম্বাই, চায়না-থ্রি, চায়না-টু, কাঁঠালি ও মোজাফফরি জাতের লিচু। এ বছর চিরিরবন্দর উপজেলায় লিচু চাষে জমির পরিমাণ প্রায় ৫৬৫ হেক্টর। লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ছয় হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন।

চিরিরবন্দর উপজেলার গলাহার গ্রামের কৃষক দিপক রায় বলেন, আমার লিছুর বাগানে বিভিন্ন জাতের প্রায় ১৫০টি লিচুর গাছ রয়েছে গত বছরের তুলনায় লিচুর ফলন ভালো বেশ ভালো হয়েছে। আশা করছি প্রায় ১০ লাখ থেকে ১৪ লাখ পিছ পর্যন্ত ফল হতে পারে। বাগানে এখন পর্যন্ত লিচুর উৎপাাদন খরচ হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকা। আশ করছি প্রতি পিছ লিচুর তিন থেকে চার টাকা দরে বিক্রি করতে পারব।

একই এলাকার লিচু চাষি একরামুল হক জানান, আমি ২০০ লিচু গাছ পাঁচ বছরের জন্য লিজ নিয়ে চাষ করছি। গত বছর ফলন ছিল না এবার প্রচুর পরিমাণে ফল আসছে এবার একেকটি লিচু তিন থেকে চার টাকা বিক্রি হবে আশা করছি। আশ করছি উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও গতবারের ক্ষতি পুশিয়ে ভালো লাভবান হব।

আরেক কৃষক হবিবর রহমান বলেন, দিনাজপুরে অন্যান্য উপজেলার থেকে চিরিরবন্দর উপজেলার লিচুর বাগানে লিচুর বাম্পার ফলন আসছে। একবার লিচুর দাম আশা করছি বোম্বাই লিচু প্রতি পিস ৩ থেকে ৪ টাকা, বেদানা ৮ থেকে ১০ টাকা প্রতি পিছ, মাদ্রাজি ২ টাকা থেকে ৩ টাকা বিক্রি করতে পারব।

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফনি বাবু বলেন, ‘দেশর সকলে অবগত যে দিনাজপুর জেলা লিচু ও চিকন চালের জন্য বিখ্যাত। দিনাজপুরর জেলার অন্যান্য উপজেলায় লিচুর ফল কিছুটা কম হয়েছে।’ কিন্তু আমাদের চিরিরবন্দর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের গলাহার গ্রামের লিচুর বাগানগুলোতে পর্যাপ্ত ফলন হয়েছে। কৃষি বিভাগ লিচুর ফুল আশা থেকে শুরু থেকে কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। কৃষকরা সেই পরামর্শ মেতাবেক কাজ করছে আমরা কৃষি বিভাগ আশা করছি কৃষক তাদের উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও বেশ লাভবান হবে।

চিরিরবন্দর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহারা সুলতানা বলেন, দেশ ব্যপি দিনাজপুরের লিচুর বেশ সুখ্যাতি রয়েছে। আমরা জানি দিনাজপুররে বেদানা লিচু জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ বছর চিরিরবন্দর উপজেলায় লিচু চাষে জমির পরিমাণ প্রায়  ৫৬৫ হেক্টর। লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ছয় হাজার ৬৮০ মেট্রিক টন। আবহাওয়া কিছুটা প্রতিকূল থাকায় ২০ শতাংশ লিচুর লক্ষ্যমাত্র কম হওয়ার অসংখ্য করছি। তবে বাগানিরা মনে করছেন লিছুর উৎপাদন কিছুটা কম হলেও বাজারে মূল্য ভালো পাওয়া যাবে। আশা করা যায় দুই সপ্তাহ বা জুনের প্রথম সপ্তাহে দিনাজপুরেরে লিচু বাজারে আসবে। এছাড়াও আমরা লিচুতে উত্তম কৃষি চর্চার প্রাক্টিস করছি। আমরা মনে করছি নিরাপদ লিচু মানুষের হাতে তুলে দিতে পারব।