সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর চরাঞ্চলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর বর্বরচিত হামলা, সাদা পোশাকধারী ৬ পুলিশ সদস্যকে এলোপাতারি পিটিয়ে লাঞ্ছিত ও কান ধরে উঠবস করে মাফ চাওয়ার শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক শায়েস্তা করার হুমকি দিয়েছেন আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসাদ্দুল্লাহ। ওই সময় তিনি চ্যানেল ২৪, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ও জাগোনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম এর সাংবাদিক সঞ্জিত সাহাকে দেখে নেওয়াসহ শায়েস্তা করার হুমকি প্রদর্শন করেন। একইসঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি সাংবাদিক সঞ্জিত সাহাকে নিয়ে অশ্লীল ও অশালীন মন্তব্য করেন। গত শনিবার রাত ১১টার ৪৬ মিনিট কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সভাপতি আসাদ্দুল্লাহর হোয়াসটআপ নাম্বার থেকে ফোন করে এই হুমকি প্রদান করেন। হোয়াটসআপে তার সঙ্গে প্রায় ৭ মিনিট কথা বলা হয়। সেখানে তিনি নানা ধরনের হুমকি ও ভয়ভিতি প্রদর্শন করেন। আসাদ্দুল্লাহর বিরুদ্ধে হত্যা ও সংন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ১২টি মামলা রয়েছে। সে নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল আলোকবালীর ত্রাস ও বালু দস্যু হিসেবে পরিচিত। আসাদ উল্লাহ এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন আলোবালিতে বিবধমান গ্রুপ সৃষ্টি করে এলাকায় সংগাত ও সংঘর্ষ বাধিয়েছে আসছেন। ওই সব সংঘর্ষে গত কয়েক বছরে কমপক্ষে ১০ জনের প্রাণহানিসহ কয়েক শত মানুষ আহত হয়েছিল। শুধু তাই নয় আসাদ উল্লাহ চরাঞ্চল আলোকবালীতে নিজস্ব গ্যারিলা বাহিনী গঠন করেছেন। তাদেরকে অস্ত্র চালান বোমাবর্ষণসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অন্য একটি সূত্র থেকে জানা যায়, এই বাহিনী গ্রামের দেশীয় অস্ত্র তৈরি করেন। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১২টি মামলা থাকলেও সে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এছাড়া ২৪ এর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনেও জনসাধারণ হত্যার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসাদ্দুল্লাহ এত অপকর্ম করলেও পুলিশ এখনও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। সাংবাদিক সঞ্জিত সাহা বলেন, তথ্য প্রমাণের ভিত্তিত্বে নিউজটি করা হয়েছে। সত্য প্রকাশ করায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আসাদ উল্লাহ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং আমাকে শায়েস্তা করার হুমকি ও নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। উল্লেখ : ২১ মে নরসিংদী সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) রামকৃষ্ণ দাস, উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান খান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল নোমান মুন্সি, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নাজমুল হোসেন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সুমন মিয়া ও কন্সটেবল হাদিস মিয়া স্পিড বোর্ড যোগে আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর বীরগাও সাতপাড়া এলাকায় একটি মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তার করতে অভিযানে যায়।