পুলিশ বাজেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বিষয়ক কর্মশালা

প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

বাংলাদেশ পুলিশের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ফিন্যান্স অ্যান্ড বাজেট শাখার উদ্যোগে গতকাল সোমবার দুপুরে রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের (পিটিসি) একাডেমিক ভবনে ‘পুলিশ বাজেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (ফিন্যান্স অ্যান্ড বাজেট) আবু আহাম্মদ আল মামুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের পুলিশ সুপার (প্রশিক্ষণ) মো. আবু সায়েম প্রধান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান সময়ে একটি দক্ষ ও পেশাদার পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দক্ষতা অর্জনই যথেষ্ট নয়, বরং প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায়ও সমানভাবে পারদর্শী হওয়া প্রয়োজন।

কারণ, সুশাসন নিশ্চিত করার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন।

বাজেট প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘বাজেট শুধু কিছু সংখ্যার সমষ্টি নয়; এটি একটি প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা, দক্ষতা, জবাবদিহিতা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের প্রতিফলন। প্রতিটি ইউনিটের বাস্তব প্রয়োজন ও কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজেট প্রস্তুত করতে হবে। চাহিদা নিরূপণে বাস্তবতা ও দায়িত্বশীলতার ঘাটতি থাকলে সুষম বরাদ্দ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।’

তিনি আরও বলেন, সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই এর প্রতিটি পয়সা ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রতিটি কর্মকর্তার নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। সঠিক বাজেট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল হয় এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়।

তিনি অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন নিয়মকানুন, ডিজিটাল পদ্ধতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জনের বিকল্প নেই। প্রধান অতিথি তার দীর্ঘ চাকরি জীবন ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মিশনে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং নিয়মকানুন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা একজন কর্মকর্তাকে আরও দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। তিনি কর্মশালায় অর্জিত জ্ঞানকে শুধু তাত্ত্বিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য তখনই সফল হয়, যখন অর্জিত জ্ঞান প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়।

শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি রক্ষার বিষয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, সব পুলিশ সদস্যকে অবশ্যই ড্রেস রুল কোড কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। পোশাক, আচরণ ও দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই একটি বাহিনীর পেশাদারিত্ব প্রতিফলিত হয়। একইসঙ্গে তিনি সিভিল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মার্জিত পোশাক পরিধান, দায়িত্বশীল আচরণ এবং দাপ্তরিক পরিবেশের মর্যাদা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে হলে জনবান্ধব, মানবিক ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও সেবাধর্মী পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি সবাইকে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার প্রতিও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেকেও ভালো রাখতে হবে। একজন সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও ইতিবাচক মানুষই কর্মক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দক্ষতা প্রদর্শন করতে সক্ষম হন।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সবার উদ্দেশে বলেন, ‘জানার আগ্রহ বাড়াতে হবে এবং নিজেকে সবসময় জ্ঞানপিপাসু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কর্মশালা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর, প্রযুক্তিনির্ভর ও জবাবদিহিমূলক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি তিনি সবার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও পেশাগত সফলতা কামনা করেন এবং ‘পুলিশ বাজেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বিষয়ক কর্মশালার সার্বিক সাফল্য প্রত্যাশা করে বক্তব্য শেষ করেন।

এ কর্মশালায় রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ফিন্যান্স ও বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।