ধ্বংসের পথে ঠাকুরগাঁওয়ের একমাত্র সেগুন বাগান

প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠাকুরগাঁওয়ের একমাত্র সেগুন বাগান। জেলার ঐতিহাসিক রাম দাঁড়া খালের পাড়ে গড়ে ওঠা এই বাগান এখন গাছ চুরির চেয়েও বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে দখলদারিত্ব। প্রভাবশালীদের অবৈধ স্থাপনা আর মাটি খুঁড়ে নেওয়ায় হুমকিতে পড়েছে কয়েক হাজার সেগুন গাছ।

বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশ ঘেঁষে ঐতিহাসিক রাম দাঁড়া খালের পাড়ে, ১৯৬০ সালে প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সরকারিভাবে রোপণ করা হয়েছিল কয়েক হাজার সেগুন গাছ। যা ছিল বনবিভাগের আওতায়। মহাসড়ক আইন-২০২১ অনুযায়ী, মহাসড়কের সংরক্ষণ রেখার মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাইবে না। মহাসড়কের মধ্যবিন্দ থেকে সড়কের দুই পাশে ৭০ ফুট (স্থানভেদে পরিবর্তনশীল) জায়গা রাস্তার আওতাভুক্ত বা সংরক্ষিত থাকে, যেখানে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা নিষেধ। কিন্তু প্রভাবশালীরা ক্ষমতার জোরে কর্তৃপক্ষকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্থাপনা তৈরি করে আসছেন হরহামেশায়।

স্থানীয়রা জানায়, বনবিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে স্থানীয় একশ্রেণির প্রভাবশালী মহল বনভূমি দখল করে গড়ে তুলেছে পাকা স্থাপনা, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। শুধু দখলই নয়, কৌশলে গাছের গোড়ার মাটি সরিয়ে ফেলায় গাছ পরে শুকিয়ে মরছে মূল্যবান বিশাল এই সব গাছ।

ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আনিসুর রহমান বলেন, আমরা জেনে আসছি বাগানটি সরকারি এবং বনবিভাগের আওতায়। এখন জানতে পারছি জমিটা ব্যক্তি মালিকানাধীন। ফখরুদ্দীনের সময় ভাংচুর করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে আবার প্রভাবশালীদের দখলে চলে যায়। এখন সেগুন বাগানের জমি অনেকে বেচাকেনা করছেন। কত গাছ মারা যাচ্ছে, আবার কতো গাছ ঝড়তুফানে পড়ে যাচ্ছে। স্কুল শিক্ষক মোতালেব হোসেন বলেন সেগুন বাগান মানে রাষ্ট্রীয় সম্পদ। এটা কখনও ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পদ হতে পারে না। কলেজছাত্র সফিকুল ইসলাম বলেন আগে দেখেছিলাম বনবিভাগের লোকজন আসত, দেখাশোনা করত কিন্তু বর্তমানে কারও কোনো গুরুত্ব নেই। তিনি বাগান রক্ষার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রফিকুল ইসলাম নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী জানান আমার জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি বাগানটি। কিন্তু বাগানটি বর্তমানে ধ্বংসের পথে। দখলদারদের দাপটে বন বিভাগের কর্মকর্তারাও অনেকটা অসহায়। আর গাছ ধ্বংস একদিনেই হয়নি, যা পূর্বে থেকে হয়ে আসছিল বলে জানান ঠাকুরগাঁও বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা তাছলিমা খাতুন।

তবে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জীববৈচিত্র্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই প্রাকৃতিক সম্পদটি চিরতরে হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদী ঠাকুরগাঁও জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য মো: জাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান এর দায় বনবিভাগসহ সকলকে নিতে হবে। দিনাজপুরের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা ফাহিম মাসউদ বলেন বিষয় গুলো জানা নেই। তবে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।