দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে লঞ্চ চলাচল

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কামাল হোসেন, রাজবাড়ী

পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লঞ্চে উঠছেন ঢাকাসহ আশপাশে জেলার যাত্রীরা। যদিও লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন নিষেধ। তবুও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে লঞ্চগুলো। অথচ ঘাটে দায়িত্বে থাকা নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও বিআইডব্লিউটিএ’র সংশ্লিষ্টদের কার্যকর তৎপরতা তেমন একটা নেই। গতকাল সোমবার দুপুরে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটে সরেজমিন দেখা যায়, বিভিন্ন লঞ্চে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন করা হচ্ছে। এমভি আরাফাত লঞ্চের ধারণক্ষমতা ১৩০ জন হলেও তাতে ২০০ জনের বেশি যাত্রী ছিল বলে দেখা যায়। এমভি ব্ল্যাকবার্ডের ধারণক্ষমতা ১২১ জন হলেও প্রায় ১৮০ জন এবং এমভি তিতাসে ১৪৮ জনের স্থলে প্রায় ১৬০ জন যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ঘাট এলাকায় লঞ্চের ভেতরে ও ডেকে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কর্মস্থলে দ্রুত ফিরতে গিয়ে অনেক যাত্রী ঝুঁকি নিয়েই নদী পারাপার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। পাটুরিয়াগামী যাত্রী আরিফুল ইসলাম বলেন, লঞ্চের ডেকে ও নিচে গাদাগাদি করে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান আবহাওয়ায় ঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কে নেবে? আরেক যাত্রী রইচ উদ্দিন বলেন, লঞ্চে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জামও চোখে পড়েনি। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে তার কার্যকর প্রয়োগ দেখা যাচ্ছে না। তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন বলেন, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কোনো সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘাটে বিআইডব্লিউটিএর টিম নিয়মিত তদারকি করছে।

নৌপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফরিদপুর অঞ্চল) সাজিদ হোসেন বলেন, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে দায়িত্বরত সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাই কাজ করছে।