নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় ডায়গনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি
ভোলার চরফ্যাশনে সরকারি নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে লাইসেন্সবিহীন কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স ব্যবহার করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন একশ্রেণির অসাধু ডায়াগনোস্টিক ব্যবসায়ী। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে অনভিজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে সিজারিয়ানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশন করানো হয়। একারণে প্রায়ই কোননা কোনো ডায়গনস্টিক সেন্টারে নবজাতক কিংবা প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা শহরের হাসপাতাল রোডের সৌদিয়া হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকের ভুলে নবজাতক মারা গেছে স্বজনদের এমন অভিযোগে ক্লিনিকটিতে তদন্তে যান উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. এমাদুল হোসেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এমাদুল হোসেন নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়ে বলেন, এক্ষেত্রে রোগীর স্বজন এবং চিকিৎসক উভয়ের ভুল আছে। ডেলিভারী ৫০ ভাগ ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও স্বজনরা এখানে ডেলিভারী করানোর অনুমতি দেওয়া এবং চিকিৎসকরা ডেলিভারি করানো ঠিক হয়নি। চিকিৎসকের উচিত ছিল উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্রে পাঠানো। এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ডায়াগনোস্টিক সেন্টারটির লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকায় নবায়ন না করা পর্যন্ত তাদের সিজার অপারেশনসহ সার্জিক্যাল সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানাগেছে, ৬ মে উপজেলা সদরের ইকরা হাসপাতাল এন্ড ডায়গনস্টিক সেন্টারে গর্ভের সন্তানসহ এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ভূল চিকিৎসায় গর্ভবর্তীর মৃত্যুর অভিযোগে চিকিৎসকের বিচার দাবিতে মানববন্ধন হয়। জনতার প্রতিবাদের মুখে ঐ ক্লিনিকের চিকিৎসক আঁখি আক্তার চরফ্যাশন থেকে অন্যত্র চলে যান।
এর আগে হাসপাতাল রোডের আদণ্ডদ্বীন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে এক গর্ভবতীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ভুল চিকিৎসায় গর্ভবতীর মৃত্যু হলে অজ্ঞান করা হয়েছে বলে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে ভোলা পাঠিয়ে দেওয়া হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত্যু বলে জানালে পরে এনিয়ে চিকিৎসার মান নিয়ে তোলপাড় হয়।
