দুর্গাপুরের নতুন ইউএনও আহমেদ সাদাত খান

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  কলিহাসান, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা)

দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক শূন্যতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পেল নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা।

প্রায় ২৫ দিন ইউএনও পদশূন্য থাকার পর ৩৭তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা আহমেদ সাদাত গত (৭ মে) দুর্গাপুর উপজেলায় নতুন ইউএনও হিসেবে যোগদান করছেন। গত ৭মে ২০২৬ ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ্ শাম্মী, এনডিসি’র এক প্রজ্ঞাপনে যোগদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ থেকে উপজেলার ইউএনও পদটি শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়। অতিরিক্ত দায়িত্বের মাধ্যমে দাপ্তরিক কাজ চলমান থাকলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি এবং জনসেবামূলক কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত গতি ছিল না। এ অবস্থায় একজন পূর্ণকালীন ইউএনও নিয়োগের দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গত ৭ মে আহমেদ সাদাতকে দুর্গাপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়। ওই কর্মকর্তা ৩৭তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন। কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি দায়িত্বশীলতা, সততা এবং জনবান্ধব প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের জন্য সুনাম অর্জন করেছেন। তিনি দুর্গাপুর উপজেলার ইউএনও হিসেবে যোগদানের পূর্বে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে।

নতুন ইউএনওর যোগদানের খবরে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষের অনুভূতি দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক শূন্যতা কাটিয়ে এখন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে।

উপজেলার সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, একজন স্থায়ী ইউএনওর উপস্থিতি শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রমকে গতিশীল করবে না, বরং জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের সেতুবন্ধনও আরও শক্তিশালী করবে। নতুন ইউএনওর নেতৃত্বে দুর্গাপুরে সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা আরও বেগবান হবে।

ইউএনও আহমেদ সাদাত বলেন, আমি সব সময় দায়িত্বটাকে আমার অন্তরের একটা অংশ মনে করি। উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের সেবার জন্য আমার দরজা সব সময় খোলা থাকবে।