লাউয়ের পিস ৫ টাকা লোকসানে চাষি

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  দুর্গাপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি

ঈদুল আযহার পর রাজশাহী দুর্গাপুর উপজেলায় লাউয়ের দামে ধস নামছে। পাকা কাঁচা সড়কের মোড়ে মোড়ে লাউ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫ টাকা পিস দরে। এ লাউ আবার দেশের বিভিন্ন স্থানে হাত বদলেই দাম বেড়ে হয়ে যাচ্ছে দশগুণ বেশি।

এতে ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও লোকসানে পড়ছেন সাধারণ লাউ চাষিরা। লাউ চাষিরা জানান, ঈদের আগে প্রতি পিস লাউ বিক্রি করছেন ৩৫ থেকে ৪০টাকা দরে। ঈদের দুই তিনদিন ব্যবধানে এ লাউ এখন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫ টাকা পিস দরে। এমন দরে লাউ বিক্রি করলেও উৎপাদন খরচই উঠবে না বলে জানিয়েছেন একাধিক লাউ চাষি। এদিকে, এ উপজেলায় এবার লাউয়ের রেকর্ড পরিমাণ ফলন হয়েছে। কৃষকের উৎপাদিত লাউ প্রতিদিন কাঁচা পাকা সড়কে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে লাউয়ের পসরা সাজিয়ে কেনাবেচা হচ্ছে। সেখান থেকে আবার ট্রাকে করে এ উপজেলার লাউ সারা দেশে সরবরাহ করছেন পাইকারী ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও দুর্গাপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে এবার ৬৬৬ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে। যা গতবার ছিল ৫২১ হেক্টর জমিতে। জেলার সবচেয়ে বেশি লাউচাষ হয়- দুর্গাপুর ও পুঠিয়া উপজেলায়। সরেজমিনে দুর্গাপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, ফসলের মাঠে মাচায় মাচায় শুধু লাউয়ের সমারোহ।

রাস্তার মোড়ে ও জমিতে তা বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগে প্রতি পিস লাউ ৩২ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫ টাকা পিসদরে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন মোড় ও জমি থেকে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে লাউ কিনছেন। দুপুর নাগাদ কেনা লাউ ট্রাকে তুলে ফেলছেন। এসব লাউ ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এদিকে প্রত্যন্ত গ্রামের চাষিদের থেকে সরাসরি ব্যবসায়ীরা কমদামে লাউ কিনলেও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বাজারদরে বাস্তব উল্টো চিত্র। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ঈদের অজুহাতে চাষিদের থেকে কমদামে লাউ কিনছেন ব্যবসায়ীরা। পরে এসব লাউ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে প্রায় ১০গুনের অধিক লাভ করছেন তারা। ফলে ব্যবসায়ীরা অধিক লাভবান হলেও লোকসানে রয়েছেন চাষিরা। দুর্গাপুর পৌর এলাকার দেবীপুর গ্রামের ইমরান আলী মুঠোফোনে বলেন, ঈদের পর শনিবার চাকরি সুবাদে গ্রামের বাড়ি থেকে নরসিংদী চলে আসছি। বাড়ির সামনের মোড়ে মাত্র ৫ টাকা পিস লাউ কিনল ব্যবসায়ীরা। ওই (রাজশাহীর) লাউ এখানে নরসিংদী এসে দেখি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা পিস। প্রায় ১০ গুনের ওপর লাভ করছেন ব্যবসায়ীরা। এমনভাবে প্রতিটি সবজির দামই গ্রাম থেকে শহরে বিশাল ফারাক রয়েছে। উপজেলার নওপাড়া গ্রামের কামরুল হাসান থাকেন ঢাকার মহাখালীতে। তিনি মুঠোফোনে জানান, এবারের ঈদ আমি ঢাকায় করছি। বাড়ি থেকে লোক মারফত কিছু আম ও লাউ পাঠায়ছে। শুনেছি নিজ এলাকায় লাউয়ের দাম ৫ টাকা পিস। আর এসে এই লাউ হয়ে যাচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা পিস। ফলে গ্রামের কৃষকরা সবজির নায্যমূল্যে পায় না। গত রোববার সকালে উপজেলার সদর মোড়ে লাউ কিনছিলেন ব্যবসায়ী আব্দুল আলীম। তিনি জানালেন, এখন ঈদের মৌসুম। পরিবহন সংকট। আবার চাষির খেতে লাউ পচে যাচ্ছে। ফলে লাউয়ের দাম কমছে। হাত বদল হলেই লাউয়ের দাম দশগুন বেড়ে যায় এ বিষয়ে এ ব্যবসায়ী জানান, চালক হেলপার ছুটিতে আছেন। এ কারণে পরিবহন সংকটে সরবরাহ খরচ বাড়ছে। এখানে লাউয়ের দাম কম হলেও বর্তমানে সরবরাহ খরচ বাড়ায় খুব একটা লাভ হয় না বলে জানান তিনি। লাউচাষি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, তার জমি থেকে সবেমাত্র লাউ বিক্রি শুরু হয়েছে। ১৫ কাঠা জমির মাচায় লাউ গাছে প্রচুর চালান এসেছে। প্রথম দিনেই ৪০ পিস বিক্রি করেছি ৩২ টাকা পিসদরে লাউ বিক্রি করে ছিলেন। ঈদের পর দাম পড়ে গেছে। এরকম দাম থাকলে লাউয়ে ব্যাপক লোকসান হবে। রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, অনেক সময় গ্রাম ও শহরে সবজির দামে বিশাল ফারাক হয়। সিন্ডিকেটের কারণে। এ বিষয়ে আমরা সরকারের কাছে রিপোর্ট করি। এই কর্মকর্তা বলেন, এবার জেলায় সবচেয়ে বেশি লাউচাষ হয়েছে। এ অঞ্চলের কৃষকেরা আলু পেঁয়াজ ওঠানোর পর প্রায় জমিতে মাচায় লাউ চাষ করে। প্রতিদিন পাকা সড়ক বা মোড়ে সরাসরি কৃষকের থেকে লাউ কিনেন পাইকাররা। পরে এসব লাউ সারাদেশে সরবরাহ করেন তারা।